দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসলামের মূল ভিত্তি কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত। এ পাঁচ ভিত্তির মধ্যে রোজা একটি অন্যতম ভিত্তি। যা আত্মসংযম, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়।
আরবি ১২টি মাসের মধ্যে ৯ম তম মাস রমজান এ মাসে প্রতটিি প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমি নর ও নারীর প্রতি রোজা রাখা ফরজ করা হয়ছে। পূর্ণ একটি মাস মানুষকে আল্লাহ তায়ালা সিয়াম পালন করার জন্য আদেশ করেছেন।
১. প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ (আবশ্যকীয়) ইবাদত:
আল্লাহ তায়ালা বলেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ তোমাদের জন্য রোজাকে ফরজ করা হয়েছে, যেমনি ভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা আল্লাহভীরু হতে পার। (সূরা বাকারাহ: ১৮৩)
২. পবিত্র কোরআন অবতীর্ণের মাস:
এ মাসে আরেকটি বৈশিষ্ট হলো আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন এ মাসে লাউহে মাহফুজ থেকে এক সাথে প্রথম আসমানে নাযিল করেছেন।
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
অর্থ: রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিকে পাবে, সে যেন সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে সে যেন অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা কঠিন তা চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর। এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর করতে পার। (সূরা বাকারাহ: ১৮৫)।
৩. এ মাসেই লাইলাতুল কদর যা সম্পর্ক আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
অর্থ: নিশ্চয় আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। তুমি কী জানো কদরের রাত কী? কদরের রাত এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। (সুরা কদর: ১-৩) রোজার মাসেই আমরা কদরের রজণি পেয়ে থাকি, এ সময় ইবাদত হাজার রজনির এবাদতের চাইতে উত্তম।
৪. ক্ষমা লাভের মাস: এ মাসে মানুষ তার পূর্বাপর সকল অপরাধের ক্ষমা নেয়ার জন্য অফুরন্ত সুযোগ আল্লাহ তায়ালা তৈরি করে দিয়েছেন। রাসুল স. বলেছেন:
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
অর্থ: যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পূর্ণ ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশায় রাখে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (সহিহুল বুখারি, কিতাবুল ইমান-৩৮)
৫. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাস:
মুসলিমরা যেসব ইবাদত করে তা নিজেদের কল্যানেই করে থাকে। প্রতিটি ইবাদতের মাধ্যমেই ব্যক্তি, দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ অর্জন করে থাকে। কিন্তু রোজা সম্পর্কে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন; রাসুল (স.) হতে বর্ণিত
قال رسول الله ﷺ: "قال اللهُ عزَّ وجلَّ: كلُّ عملِ ابنِ آدمَ له إلا الصيامَ، فإنه لي وأنا أجزي به
অর্থ: -“আদম সন্তানের সমস্ত আমল তার নিজের জন্য, তবে রোযা (সিয়াম) শুধুমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো।
৬. পরকালীন মুক্তির সোপান: রোজায় মুসলমানরা সারাদিন পানহার ত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়, আবার রাতের বেলায় অর্ধরাত নামাজ ও তিলাওয়াতে মশগুল থাকে। যার জন্য কিয়ামতের দিন রোজ বলবে “হে আমার রব, আমি তাকে দিনে খাবার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত রেখেছি সুতরাং আপনি আমার থেকে তার জন্য সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে হে রব আমি তাকে রাতে ঘুমাতে দেইনি, সে তেলাওয়াত করেছে সুতরাং আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। রোজা ও কোরআনের সুপারিশ কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমদ: ৬৬২৬)। এ সুপারিশটি হবে ব্যক্তিকে ক্ষমা করে জন্নাতে প্রেরণের সুপারিশ।
এছাড়া অসংখ্যা হাদিস রয়েছে রোজা সর্ম্পকে, রাসুল (স.) বলেছেন রমজানে আল্লাহ তায়ালা আসমানের দরজা খুলে দেন, শয়তানকে শিকল বন্ধি করেন, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করেন, জান্নাতের দরজা খুলে দেন,
৭. আধুনিক বিজ্ঞান ও সাওম: রাসুল স. বলেছেন তোমরা ইফতার ও সাহরি কর। মূলত ফজরে ওয়াক্তের পূর্বে এবং সুবেহ সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত সাহরির সময়, সাহরির পর থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত মানুষ আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্টি লাভের আশায় সমস্ত পানহার ও খাবর থেকে নিজেকে বিরত রাখে। এর মাধ্যমে মানুষের শরীরের পূর্বের ১১ মাসের ধারাবাহিক খাদ্য গ্রহনের স্বাভাবিক নিয়ম ব্যহৃত হয়। যা সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় দীর্ঘ সময় উপবাসের কারণে কোষে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়,মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রন, ইনুসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রদাহ কমানো ও ওজন নিয়ন্ত্রনে আসে।
রোজার মাসে মানুষকে আল্লাহ তায়ালা সমস্ত অন্যায় পাপাচার থেকে বিরত থাকার আদেশ করেন যা মানুষের আত্মশুদ্ধি ও মান উন্নয়ন ঘটায়, মানুষকে সংযমি হতে শিখায়। আল্লাহ আমাদেরকে রমজানে পবিত্রতা রক্ষা করে, রোজা রেখে পাপাচার থেকে মুক্ত থাকর তাওফিক দান করুক-আমিন।
লেখক
মো: সাইফুল ইসলাম নোমান (প্রভাষক)
হাজী মরণআলী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা
নাখালপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা