দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মহান আল্লাহ একজন পুরুষ আদম (আ.) ও একজন নারী হাওয়া (আ.)-এর মাধ্যমেই সমগ্র মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিগত দিক থেকে নারী-পুরুষের যেমন কোনো বিভেদ বা বৈষম্য নেই; তেমনি আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, অধিকার-মর্যাদা, দায়িত্ব-কর্তব্য ইত্যাদি দিক থেকেও নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য থাকা সমীচীন নয়। তৎকালীন আরব সমাজে বহু আগে থেকেই নারী নির্যাতনের প্রথা চালু ছিল। তারা শুধু নবীর মুখের কথাতেই নারীর প্রতি বৈষম্য বন্ধে রাজি হতো না কখনোই। তাই নারীর প্রতি সদয় হতে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ শোনালেন তিনি।
তিনি জানালেন, মেয়ে মা-বোন যে রূপেই হোক পুরুষের জীবনে নারী আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তাই কন্যা সন্তানের বাবাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ শোনালেন। এক হাদিসে রাসূল সা. বললেন,
‘যে ব্যক্তির কন্যা সন্তান আছে, আর যে তাকে জীবন্ত কবর দেয়নি কিংবা তার সঙ্গে লাঞ্ছনাকর আচরণ করেনি এবং পুত্র সন্তানকে তার ওপর অগ্রাধিকার দেয়নি; আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (আবু দাউদ)
অপর হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তান লালন পালন করেছে, তাদেরকে উত্তম আচরণ শিখিয়েছে, বিয়ে দিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে সদয় আচরণ করেছে; সে জান্নাত লাভ করবে।’ (আবু দাউদ)
পুরুষের জীবনে নারীর অবদানের কথা পবিত্র কোরআনে তুলে ধরে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
আর আমি মানুষকে মা-বাবার সঙ্গে সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতি কষ্টে গর্ভে ধারণ করেছেন এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছেন। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ৩০ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং ৪০ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, হে আমার রব, আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার ওপর ও আমার মা-বাবার ওপর যে নিয়ামত দান করেছ, তোমার সে নিয়ামতের যেন আমি কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি এবং আমি যেন ভালো কাজ করতে পারি, যা তুমি পছন্দ করো। আর আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আহকাফ, আয়াত : ১৫)
হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া আল-কুশায়রি, তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, স্ত্রীর ওপর আমাদের অধিকার কি?
তিনি বলেছিলেন, "যখন তুমি খাবে তখন তাকে খাওয়াবে, তুমি যে মানের কাপড় পরবে তাকেও সেরকম কাপড় পরাবে এবং মুখে আঘাত করবেন না, তার নিন্দা করবে না এবং বাড়িতে ছাড়া তাকে পরিত্যাগ কবে না।" (আহমাদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ)
অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর, এরপর মায়ের সঙ্গে, এরপর মায়ের সঙ্গে, এরপর বাবার সঙ্গে, এরপর নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে। (মুসলিম, হাদিস : ২৫৪৮)
এই আয়াতের মাধ্যমে পুরুষের জীবনে নারীর অবদান ও ত্যাগ তিতিক্ষার বিষয়টি প্রমাণিত। পুরুষের জীবনে এমন অবদান ও মায়াবতী নারীদের ওপর বিবেক সম্পন্ন কোনো পুরুষের পক্ষে নির্যাতন করা সম্ভব নয়। বিবেক-মনুষ্যত্বহীন পুরুষের পক্ষেই এমন কিছু কল্পনা করা সম্ভব।
কিন্তু, বর্তমানে অতীত যুগের অন্ধকার অধ্যায় ছেড়ে প্রতিনিয়ত আধুনিক হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে মানুষ। তবুও নারীর ওপর সহিংসতা, নির্যাতনের পুরোনো স্বভাব থেকে এখনো পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি মানব সভ্যতা। অথচ মানুষের এই অত্যাচারীসূলভ স্বভাব থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইসলামে। আল্লাহ তায়ালা নারীর প্রতি কোমল ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে- ‘নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর।’ (সূরা নিসা, আয়াত : ১৯)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্ত্রীদের কাঁচের সঙ্গে তুলনা করতেন। তাদের প্রতি সদয় হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন- ‘কাঁচগুলোকে (স্ত্রীদেরকে) একটু দেখে শুনে যত্নের সঙ্গে নিয়ে যাও।’ (মুসলিম)
এস