দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদুল আজহা ত্যাগ ও আনন্দের দিন। ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনকে ইবাদত-বন্দেগি দ্বারা মাহাত্ম্যপূর্ণ করেছে। ঈদুল আজহা মুসলিম মিল্লাতের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিন। মনের সব কালিমা দূর করে— মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে, মান-অভিমান বিসর্জন দিয়ে— একতা, সমদর্শিতা, ভ্রাতৃত্বতা ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের দিন। যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করার পবিত্র উপলক্ষ।
ইসলাম ধর্মে ঈদের প্রচলন শুরু হয় রসুলুল্লাহ (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের প্রথম বছর অর্থাৎ প্রথম হিজরি থেকে। (কিতাবুল ফিকহ ১/৫৪৮)
ঈদুল আজহার দিন মহানবী (সা.) বিভিন্ন আমল করতেন। সেগুলো অনুসরণ করা আমাদের জন্য সুন্নত। পাশাপাশি এসব আমল প্রত্যাশিত আনন্দঘন ঈদকে প্রাণময় করে তুলবে। আসুন, ঈদ সত্যিকারার্থে আনন্দময় করে তুলতে— মহানবী (সা.)-এর জীবনঘনিষ্ঠ সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো জেনে নিই:
১. ঈদুল আজহার দিনে শ্রেষ্ঠ আমল হচ্ছে কোরবানি করা। কেননা এই দিনে আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে পশু জবাই করা।
২. ৯ জিলহজ দিবাগত রাত তথা ঈদের রাতে বেশি বেশি নেক আমল করা, তওবা ও ইস্তেগফার করা। (তারগিব ও তারহিব ২/৩৮৪)
৩. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর ৯ জিলহজ্জ (১৬ জুন) ফজরের পর থেকে ১৩ জিলহজ (২০ জুন) আসর পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা সকল নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। (দুররে মুখতার ১/৭৯৮)
৪. ঈদের সকালে না খেয়ে গোসল, সুগন্ধি, মেসওয়াক করে ও তাকবির বলতে বলতে ঈদের মাঠে যাওয়া এবং মাঠ থেকে ফিরে এসে কোরবানি করে নিজের হাত-পায়ের নখ ও গোপনাঙ্গের লোম পরিষ্কার করে কোরবানির পশুর গোশত দিয়ে প্রথম খাবার শুরু করা। (আত-তারগিব ১/৩৩৫)
৫. কোরবানি ওয়াজিব নামাজ ও পর্দা করা ফরজ। অতএব ওয়াক্ত হলে সময়মতো নামাজ আদায় করবে, বেপর্দা হয়ে নারীপুরুষ অবাধে গোশত না কাটা এবং নাচ-গান ইত্যাদি অপসংস্কৃতি থেকে বিরত থাকতে হবে। (সুরা রুম ১৮, বুখারি ৩৪৯)
৬. ফ্রিজে গোশত সংরক্ষণ না করে গরিব-অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা এবং ছোট পশু বা ভাগ হলেও নিকটতম গরিব-অসহায় আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীদের জন্য কিছু অংশ বিতরণ করা বা একসাথে ও পাক করে কিছু বণ্টন করা সুন্নতও বটে। (তিরমিজি ১৫১০)
৭. নিজের পশু নিজের হাতে জবাই করা সুন্নত। (বুখারি ৫৬২৪)
৮. ঈদের রাতে বা আগে পরে কবর জিয়ারত করা। (ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২/২৭৭)
৯. ঋণ থাকলে পরিশোধ করা এবং হক্কুল ইবাদ অর্থাৎ বান্দার হক আদায় করা। এক্ষেত্রে ঋণ যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করা জরুরি। তবে দাতার সম্মতিতে ঋণ দেরিতে পরিশোধ করে কোরবানি দেওয়ায় কোনো বাধা নেই। আর যদি ঋণ আদায় করে দিলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ বাকি থাকে তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬)
সর্বোপরি রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যাদের সামর্থ্য আছে তারা যদি কোরবানি না করে, তাহলে সে যেন ঈদগাহে আমাদের নিকটবর্তী না হয়। (তারগিব ২/৩৯৪) অতএব, কোরবানি হোক আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য। কেননা আল্লাহপাকের দরবারে গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না বরং আমাদের আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা ও তাকওয়া পৌঁছায়। (সুরা মায়িদা ২৭)
এস