দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এই ঈদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পশু কোরবানি করা। ইসলামি শরিয়তে সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘কাজেই আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাউছার, আয়াত: ২)
তবে সম্প্রতিকালে এ বিষয়ে মানুষের মাঝে একটি ধারণা আছে যে, কুরবানি না দিয়ে সে টাকা অসহায়,বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে দান করে দিলে মানুষের আরো বেশি উপকার হবে। কিন্তু বিষয়টি মোটেই ইসলাম সম্মত নয়, বরং কুরবানীর দিন প্রাণী যবাহ না করে সে টাকা দান করলে কুরবানীর ওয়াজীব আদায় হবে না, বরং কুরবানীই করতে হবে। কারণ সামর্থবানের ওপর পশু কুরবানী করা ওয়াজীব।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর একবারের জন্যও কোরবানি করা বাদ দেননি। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তার জন্য কোরবানি না করে সেই টাকা কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে দান করে দেওয়া ইসলামি শরিয়তে জায়েজ নয়। এভাবে কোরবানি আদায় হবে না। ইসলামে কোরবানির অর্থ হলো, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের জন্য শরিয়ত নির্দেশিত উপায়ে কোনো প্রিয় বস্তু মহান আল্লাহর দরবারে পেশ করা।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
কোরবানির দিন আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে প্রিয় কোনো আমল নেই। কেয়ামতের দিন জবাইকৃত পশু শিং, পশম, ক্ষুরসহ আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। অতএব, তোমরা আনন্দিত মনে কোরবানি কর। (তিরমিজি)
আরেক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেকাছেও না আসে। (ইবনে মাজাহ)
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, আল্লাহর কাছে কোরবানির দিনগুলোতে (জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ) কোরবানির চেয়ে বেশি পছন্দের কোনো আমল নেই। (তিরমিজি: ১৪৯৩)
এ কারণে কোরবানির দিনগুলোতে নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদের মালিকের ওপর পশু জবাই করা ওয়াজিব। তবে নির্ধারিত দিনে সামর্থ্যবান হওয়ার পরও কোরবানি না দিয়ে বিকল্প হিসেবে এর মূল্য দান করলে কোরবানি আদায় হবে না। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। ওই বছরও তিনি কোরবানি না করে দান-সদকা করতে বলেননি; বরং ওই বছর কোরবানি করে গোশত তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করতে নিষেধ করেছিলেন। যদিও পরের বছর দুর্ভিক্ষ না থাকায় সংরক্ষণের অনুমতি দিয়েছেন। (বুখারি: ৫৫৬৯; মুসলিম: ১৯৭৪)
এস