দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সামর্থ্যবান প্রত্যেকের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। একজন মুসলমানের কাছে মৌলিক প্রয়োজনের, অতিরিক্ত মক্কায় গিয়ে হজ করে নিজ দেশে আসা পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর হজ ফরজ। অনেকে শেষ বয়সে অর্থাৎ বয়স্ক হলে হজে যাবে বলে ভাবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে হজ ফরজ হলে সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ, যে বছর হজ ফরজ হয় সে বছরই আদায় করা ওয়াজিব। হজ ফরজের পর আদায়ে দেরি করা ইসলামে নিন্দনীয় ও গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
রাসুল (সা.) বলেন, বায়তুল্লাহর হজ করার জন্য যে ব্যক্তির পথসম্বল আছে এবং বাহন ইত্যাদির ব্যয় বহনের সামর্থ্য আছে অথচ সে হজ সম্পাদন করে না, সে ইহুদি কিংবা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করুক, তাতে কিছু যায়-আসে না।(তিরমিজি, হাদিস : ৮১২; বায়হাকি, হাদিস : ৩৬৯২)
অন্য হাদিসে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে, সে যেন তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়। কারণ যেকোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থাও না থাকতে পারে; অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৮৮৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৭৩২)
পবিত্র হজ পালনের ক্ষেত্রে বান্দার জন্য রয়েছে বিশেষ সওয়াব। সেই সঙ্গে আগের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি কেউ হজ করে এবং তাতে কোনোরূপ অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ না করে, তবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। (তিরমিজি, ৮০৯)
হজ ফরজের পর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যের মাধ্যমে বদলি হজ করানোর বিধান রয়েছে। তবে হজের সফরে গিয়ে কেউ কেউ ইন্তেকাল করেন। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে মারা গেলে তার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হয়। নিজ দেশে নিতে দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তি আমলে নেওয়া হয় না। হজ পালনে গিয়ে মৃত্যু হলেও বান্দার জন্য আছে বিশেষ মর্যাদা।
হাদিসে রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজ, ওমরা অথবা আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে বের হবে, আর পথেই মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য গাজী, হাজী বা ওমরা পালনকারীর সওয়াব ধার্য করবেন। (মেশকাত, হাদিস: ২৫৩৯)
অন্য হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশ্যে বের হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, কেয়ামত পর্যন্ত তার হজের সওয়াব লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি ওমরার উদ্দেশ্যে বের হলো, আর সে অবস্থায় তার মৃত্যু হলো, কেয়ামত পর্যন্ত তার জন্য ওমরার সওয়াব, লেখা হবে। (মুসনাদে আবু ইয়ালা: ৬৩৫৭)
অপর বর্ণনায় এসেছে, ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে ‘উকুফ’রত ছিল। হঠাৎ সে তার বাহন থেকে নিচে পড়ে গেলে ঘাড় মটকে সে মারা যায়। রাসুল (সা.) কে তা অবহিত করা হলে তিনি বললেন, তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার ইহরামের কাপড় দু’টি দিয়ে কাফন দাও, তাকে সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথাও আবৃত করো কেননা, মহান আল্লাহ তা’আলা তাকে কেয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠাবেন। (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩০৮৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৬৩)
হজে যাওয়ার পর কেউ মক্কায় মারা গেলে সাধারণত তাকে কাবা শরিফের পার্শ্ববর্তী জান্নাতুল মুয়াল্লাতে আর যারা মদিনায় মারা যান তাদের মসজিদে নববি সংলগ্ন জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। এরমধ্যে জান্নাতুল বাকিতে নবীজির সন্তান, স্ত্রীসহ অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম শুয়ে আছেন। সুতরাং উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও হজে গিয়ে মারা গেলে এই বিশেষ মর্যাদা তো থাকছেই।
এস