দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হজের মূল কার্যক্রম পালন করা হয় জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত। বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই সৌদি আরবে যাত্রা করেন হাজিরা। হজ করতে ইচ্ছুকদের ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ইহরামের নিয়ত করা ভালো। কারণ, জেদ্দা পৌঁছানোর আগেই ‘মিকাত’ বা ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট স্থান। সেসময় অনেকেই বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন তাই সবাই বিমানবন্দর থেকেই ইহরামের নিয়ত করেন।
তবে হজযাত্রী যদি জানতে পারেন, সৌদি আরবে তার প্রথম গন্তব্য মদিনায়, তাহলে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ইহরাম করতে হবে না। যখন মদিনা থেকে মক্কায় যাবেন, তখন ইহরাম করতে পারেন। তবে, বিনা ইহরামে মিকাত পার হলে এ জন্য দম বা কাফফারা দিতে হবে।
সৌদি আরবে বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে আরবিতে লেখা মোয়াল্লেমের নম্বরসহ দেওয়া কবজিবন্ধনী বা বেল্ট হাতে পরে নিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
বিমানের দীর্ঘ সফরে শরীর কিছুটা ক্লান্ত হলে বিশ্রাম করুন। সময়মতো নামাজ আদায় করুন। সঙ্গে ওমরাহ পালন করুন। তবে ওমরাহ পালনের আগে অবশ্যই ওমরাহর নিয়ম এবং এর ফরজ ও ওয়াজিবগুলো সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।
কাবা ঘরের চারটি কোণের আলাদা আলাদা নাম আছে। যেমন- হাজরে আসওয়াদ, রকনে ইরাকি, রকনে শামি ও রকনে ইয়ামেনি। হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোণ থেকে শুরু হয়ে কাবাঘরের পরবর্তী কোণ রকনে ইরাকি তারপর যথাক্রমে রকনে শামি ও রকনে ইয়ামেনি ঘুরে আবার হাজরে আসওয়াদ বরাবর এলে তাওয়াফের এক চক্কর পূর্ণ হয়। এভাবে একে একে সাত চক্কর দিতে হয়।
তাওয়াফ শেষে সাফা–মারওয়া গিয়ে সাঈ করুন। সাঈ সাফা থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে শেষ হয়। সাফা থেকে মারওয়া প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন দৌড়। এভাবে সাতটি দৌড় সম্পূর্ণ হলে একটি সাঈ পূর্ণ হয় (মনে রাখার জন্য মারওয়াতে ১, ৩, ৫, ৭ নম্বর দৌড় বা চক্করগুলো হবে)।
ওমরাহর করার আগেই নিয়মকানুন জেনে নিন। ওমরাহর সব কাজ ধারাবাহিকভাবে করতে হবে, যেমন: সাতবার তওয়াফ করা, নামাজ আদায় করা, জমজমের পানি পান করা, সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করা, মাথা ন্যাড়া অথবা চুল ছোট করা।
কোনো ধরনের অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনায় পড়লে বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিকেল সদস্যের চিকিৎসক সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তাওয়াফ, সাঈ করার সময় অহেতুক কথা বলা বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া, হজের ৫ দিন মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, মিনায় অবস্থানের জন্য ব্যাগে অতিরিক্ত ইহরামের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখুন।
আল্লাহ তায়ালা সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি হজের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘আর মানুষের ওপর কর্তব্য হলো আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা। এটা তার জন্য যে বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছোনোর সামর্থ্য রাখে।’ (সূরা আল ইমরান, আয়াত : ৯৭)। অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও ওমরাহ পূর্ণ করো।’ (সূরা বাকারা, আয়াত :১৯৬)
হজের ফজিলত সম্পর্কে এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক উমরা থেকে আরেক উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহর ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর হজ্জে মাবরুরের (কবুল হজ) প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। (বুখারি, হাদিস : ১৭৭৩, মুসলিম, হাদিস : ১২১)
এস