দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর বন্ধের দাবিতে সৌদি আরবের রিয়াদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজালাল ভুট্টো ও সালেহ আহমেদ ভূঁইয়া। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া এবং দুবাই, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। বর্তমানে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
পাসপোর্ট সেবা বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত স্মারকলিপিটি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
আয়োজকরা বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় হঠাৎ করে বিদেশিদের হাতে প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা তুলে দেওয়া হলে বাংলাদেশিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন।
বক্তারা বলেন, যুদ্ধ এখন শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, তথ্য দিয়েও হয়। একটি দেশের নাগরিকদের তথ্যভান্ডার সেই দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের সঙ্গে যুক্ত। এই তথ্যভান্ডার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে তা দেশের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তারা আরও বলেন, প্রবাসী সেবা কেন্দ্রগুলোতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার কথা নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তাদের মতে, দেশের পাসপোর্ট সেবা বিদেশিদের হাতে দেওয়া হলে পাসপোর্টের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও তথ্য পাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দেশের ভাবমূর্তি ও প্রবাসীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এতে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান বাড়বে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়তে পারে।
এমএম/