দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্রে দুইটি বাড়ি, ছয়টি কোম্পানি ও বিলাসবহুল আটটি গাড়ির সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব সম্পদ জব্দে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
এছাড়া ১০টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধানও পেয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচার মামলার তদন্তে এসব সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে দুদকের দাবি। তবে তার ব্যাংক হিসাব ও কোম্পনিগুলোর মধ্যে কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে তার হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা থাকাকালে জয় তার পদবি ব্যবহার করে হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার করেছেন। এসব অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকার মূল্যের দুটি বাড়ি কিনেছেন, যা অবৈধ সম্পদ বলে অভিযোগ দুদকের।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের নামে আটটি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য পাওয়ার কথা দাবি করেছে দুদক। এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস-ক্লাস, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এসএল-ক্লাস, লেক্সাস জিএক্স ৪৬০, ল্যান্ড রোভার, ম্যাকলারেন ৭২০এস, মার্সিডিজ-বেঞ্জ এমজি জিটি, দুটি জিপ গ্র্যান্ড চেরোকি। এসব গাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি।
দুদকের অভিযোগ, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে হুন্ডি ও অন্যান্য অবৈধ উপায়ে অর্থপাচার করেছেন। পরে সেই অর্থে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এসব গাড়ি ও দুটি বাড়ির মালিকানা অর্জন করেন। দুটি বাড়ির জন্য খরচ হয়েছে ৫৪ কোটি টাকার বেশি।
যেসব গাড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে-২০১৫ সালের মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস-ক্লাস, ২০১৬ সালের মার্সিডিজ-বেঞ্জ এসএল-ক্লাস, ২০১৫ সালের লেক্সাস জিএক্স ৪৬০, ২০১৬ সালের ল্যান্ড রোভার, ২০১৮ সালের ম্যাকলারেন ৭২০এস, ২০১৮ সালের মার্সিডিজ-বেঞ্জ এমজি জিটি এবং ২০০১ ও ২০০৩ সালের দুটি জিপ গ্র্যান্ড চেরোকি।
এসব গাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯২৪ মার্কিন ডলার বা ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা (১২১ টাকা ডলারের রেট ধরে)। এর মধ্যে লেক্সাস গাড়িটি নিবন্ধিত রয়েছে জয়ের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওভারমায়ারের নামে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনে অভিযুক্তের যে কোনো সম্পদ জব্দ করতে পারেন। সে অনুযায়ী আদালতে আবেদন জানানো হবে এবং মামলার বিচার চলাকালে জব্দকৃত সম্পদ আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
দুদকের অভিযোগ, ২০০০ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঘুষ, দুর্নীতি ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে জয় অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং বিদেশে পাচার করেছেন।
গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুদক। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার ছয়টি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে এরই মধ্যে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, টিউলিপ সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার মোট আসামির সংখ্যা ২৩।
এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ১২৪টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৬৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
কে