দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেয়া ভর্তির প্রস্তাব ব্যাপক হারে প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাজ্য সরকারের ভিসা-সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানের সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ ভিসার আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৩ শতাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির প্রস্তাব পাওয়ার পরই কেবল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। ফলে পরে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার করলে ভিসার আবেদনও প্রত্যাহার হয়ে যায়।
অন্য কারণেও ভিসার আবেদন প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানিয়েছে, ভর্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
তাদের ভাষ্য, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণসংখ্যক স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সময়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ৫ শতাংশের বেশি পরে ভিসা প্রত্যাখ্যানের শিকার হন, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে এমন কিছু দেশের নাগরিকদের আবেদন বেশি হারে প্রত্যাখ্যান করা, যাদের বিরুদ্ধে সরকার আশ্রয়ের আবেদন করার উদ্দেশ্যে এই ভিসাপথ ব্যবহার করার সন্দেহ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তির প্রস্তাব প্রত্যাহারের প্রবণতাতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা খাতের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী নিয়োগ পুরোপুরি স্থগিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার ২২ দশমিক ৭ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রত্যাহার হওয়া আবেদনের হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। আর ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণকারী প্রতিষ্ঠান এনরোলির (Enroly) তথ্য বলছে, প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
কে