দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতীয় নির্বাচনে জোটের সমীকরণে বড় সাফল্য পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাধ্যমে আসন ভাগাভাগি করে লড়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসেছে দলটি। কিন্তু এবার সামনে ১৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের মতো জোটের সমীকরণ নয়, নগর ভোটে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ে ভিন্ন কৌশলে মাঠে নামছে জামায়াত। ১৩ সিটিতে প্রার্থী দেওয়া থেকে শুরু করে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমঝোতা, কোন পথে হাঁটছে দলটি?
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘স্থানীয় নির্বাচন হবে স্থানীয়ভাবেই’ এই নীতি অবলম্বন করে ১৩টি সিটিতেই এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অর্থাৎ কোনো জোটবদ্ধ সমীকরণ নয়, বরং স্থানীয় জামায়াতের সুপারিশ ও সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে ১৩টি সিটি করপোরেশনেই দলটির একক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রায় সবকটি সিটিতেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে দলটি। যার মধ্যে সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সব প্রার্থীর নাম একযোগে প্রকাশ করেনি দলটি।
ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের প্রথম পছন্দ ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। যদিও সাদিক কায়েমের প্রার্থিতা কিন্তু জোটের ভেতরের সমীকরণকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। কারণ একই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মনোনীত করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে।
খুলনা সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাম উঠে এসেছে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের। রংপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের টিকিট পাচ্ছেন মহানগর আমির এটিএম আজম খান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জোটগত আসন সমঝোতার স্বার্থে তাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। তবে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তার ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছে জামায়াতে ইসলামী।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এর আগে গাজীপুর-৬ আসন থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় এলেও সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় তখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে মেয়র পদে মনোনীত করা হয়েছে। গত ১৯ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মনোনীত করেছে জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার কথা জানানো হলেও সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করেনি জামায়াত। তবে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রার্থীদের নাম প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির মোসলেহ উদ্দিনকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সিলেট সিটিতে জেলা নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদ এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলীয় সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত এই সিটিতে হেভিওয়েট ও স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত মুখ হিসেবে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আ.খ.ম. আব্দুল মালেককে মনোনীত করা হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোটের একই সমীকরণ থাকবে, এমন কোনো আলোচনা হয়নি। তবে বিশেষ সিদ্ধান্তে এক-দুটি সিটিতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এ নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে জামায়াত কোনো ছাড় দেবে না।
কেএম