দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি জামায়াতে ইসলামী নমনীয় অবস্থান নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, গণঅভ্যুত্থানের এক মাস না যেতেই জামায়াতের আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এতে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে এবং অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের ১ মাস যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করেন জামায়াতের আমির! মূলত ভোটের রাজনীতির কারণে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয়তা দেখান। আর এটিই হয়ে যায় আওয়ামী লীগের বিচারের পথে বড় বাধা। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ নরমালাইজড হয়ে যায়। এরপর আওয়ামী লীগের নেতারা বলা শুরু করেন, যারা আওয়ামী লীগ করতেন, তারা জামায়াতে যোগদান করলে পুরো দায়দায়িত্ব নেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে, বিভিন্ন জায়গায় গোপনে সব আওয়ামী লীগ রাতারাতি জামায়াত হয়ে যায়!’
তিনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সার কারণে আওয়ামী অপরাধীদের সঠিক বিচার হয়নি। আর অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সেই বেপরোয়া আচরণ পরিলক্ষিত হলো।’
রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তাঁর ভাষ্য, জামায়াত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ভোটব্যাংক বাড়ানোর চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগ কখনো রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসতে পারলে সবার আগে জামায়াতের বিরুদ্ধেই প্রতিশোধ নেবে।
জামায়াত ও এনসিপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আওয়ামী ব্যবসায়ী ও নেতাদের থেকে লংমার্চ বা কর্মসূচির জন্য অর্থ ও প্রাডো গাড়ি নিয়ে পুনর্বাসন বন্ধ করুন।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ জাতির শত্রু, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ও আওয়ামী অপরাধীদের বিচারে সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। যেহেতু জামায়াতের আমির গণঅভ্যুত্থানের পরপর আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। সুতরাং জামায়াতের আমিরের উচিত সংসদে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক ঐক্যমতের প্রস্তাব করা।’
সবশেষে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘বিএনপি সরকার বিচার করবে, আর ভোটের জন্য জামায়াত তলে তলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করতে চাইলে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসবে।’
এমএম/