দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা দেশের সাত বিভাগে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন জোটের মুখপাত্র ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।
হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আমাদের দাবি— গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কিংবা দখলদারিত্ব হচ্ছে। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন দ্বারা যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে, এসব বন্ধ করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।’
সরকার শুরুতেই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেয়া রায়কে উপেক্ষা করেছে সরকার। প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রকাশ্যে ভোট চাইলেও সরকারে এসে জনগণের মতকে উপেক্ষা করেছে। সংবিধান সংস্কারের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেয়নি। এখন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’
দেশবাসীকে সজাগ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের রায় নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে এটার বিরুদ্ধে জনমত আরও শক্তিশালী করতে হবে। জনগণের সমস্যা সমাধানেও নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজপথের আন্দোলন ১১ দলের মাধ্যমে আরও সুসংহত এবং জোরদার করতে চাই।’
সাত বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে হামিদুর রহমান বলেন, ‘চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২ মে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল হবে। ১০ মে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১১ দলের সেমিনার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক জেলা ও মহানগরীতে সেমিনারগুলো অনুষ্ঠিত হবে। নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ মে রাজশাহীতে, ১৩ জুন চট্টগ্রামে, ২০ জুন খুলনায়, ২৭ জুন ময়মনসিংহে, ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আরও দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটি হলো আমরা জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করব। এজন্য আমাদের যেমন বিভাগীয় সমাবেশে শীর্ষ নেতৃত্ব থাকবেন, আবার লিয়াজোঁ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সমন্বয় করে আমরা জেলাভিত্তিক আরেকটা সফর প্রোগ্রাম রেখেছি। নেতৃবৃন্দের সফর, লিয়াজোঁ কমিটি গঠন—আন্দোলনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য, মাঠ পর্যায়ে আরও পরিকল্পিত কাজ করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। পাশাপাশি প্রত্যেক জেলায় ও মহানগরী এবং রাজধানীতে থাকা বিভিন্ন পেশাজীবী, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, নাগরিক প্রতিনিধির সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করবো।’
অক্টোবরের দিকে রাজধানীতে মহাসমাবেশের ডাক দেয়ার কথা জানিয়ে জোটরে মুখপাত্র বলেন, ‘ঢাকামুখী আমরা গণসমাবেশ করব।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে সরকারের দায়িত্ব। সংবিধান সংশোধন একটা রুটিন ওয়ার্ক। কখন কী করবে এটার জন্য আবার কমিটি গঠন—এই প্রক্রিয়ায় আমরা যাব কি না সেটা তো আগেই ক্লিয়ার করেছি। কারণ আমরা তো সংস্কার চাই। সংস্কারের জন্যই তো মানুষ ভোট দিয়েছে। এখানে ছলচাতুরী করে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার কোনো সুযোগ নাই।’
হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা রাজপথে রয়েছি এবং রাজপথেই সমাধান করতে হবে। সরকার উদ্যোগ না নিলে সংসদে এই সমস্যার সমাধান হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার এগিয়ে এলে এটা সহজ ছিল। সরকার যেহেতু বিরোধী দলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে, বিরোধী দল তো জনগণের কাছে আসা ছাড়া আর কোনো রাস্তা নাই।’
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে। ছাত্র সমাজকেও এই আন্দোলনে সজাগ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
উল্লেখ্য, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে জোটের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে গণমিছিল করেছে ১১ দল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
/অ