দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ধরে রাখতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন (সংস্কার) সে সময় হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
অন্তর্বর্তী সরকারের সবাইকে তাদের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এ অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছে। এখন এ অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবে না, ক্যারিয়ারে ফিরে যাবে এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।
রাজপথে আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম। সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।
ওমরাহ করতে সৌদি আরব যাওয়ার আগেই অধ্যাদেশগুলো নিয়ে কি হতে যাচ্ছে, তা বুঝতে পেরেছিলেন মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন যা হচ্ছে তা অপ্রত্যাশিত না, ৫ আগস্ট থেকেই শুরু হয়েছে। আমরা সংস্কার চেয়েছিলাম। বিএনপি বলেছিল নির্বাচন।
বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়ার পর কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না এমন অভিযোগ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছেন না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবেন না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।
বিএনপির অধিকাংশ নেতাই গুমের শিকার হয়েছে, সেটি দলটিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই গুমের অধ্যাদেশও তারা বাতিল করে দিতে চাচ্ছে। এই অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে বিএনপি কলঙ্কমুক্ত হবে না।
সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। কারণ তাদের নেতৃত্বে কখনো আস্থা ছিল না মানুষের। এখন ক্ষমতায় এসে তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে।
জে আই