দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়া–৪ কাহালু ও নন্দীগ্রাম আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে আটক করেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ভাই রবিউল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লার কর্মী ও থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা আটক করেন। পরে তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক দুজনকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে লাঠিসোঁটা হাতে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে বেলাল ও ফারুককে তাদের সমর্থকেরা উদ্ধার করে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত–শিবিরের নেতা–কর্মীরা মধ্যরাতে আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। বাবা–মাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমার বাবার চোখে আঘাত করা হয়।’ সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও বগুড়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মোশারফ হোসেন বলেন, অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে করে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র হাতে দাঁড়িপাল্লার কয়েক শ সমর্থক বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ ধানের শীষের কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালান এবং ভাঙচুর করে আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, টাকা বিতরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার দাবি, লিফলেট বিতরণ করতে গেলে আবদুল মজিদ ও ফারুক নামের দুই কর্মীকে আটক করে মারধর ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করতে গেলে ধানের শীষের সমর্থকেরা হামলা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে এবং প্রচারণা শেষে ফেরার পথে ধানের শীষের কর্মীরা জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিবের ওপর হামলা করেছেন।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ধানের শীষের সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লার দুই কর্মীকে আটক করেছেন এমন খবর পেয়ে জামায়াতের কর্মীরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে হামলা, ভাঙচুর বা সংঘর্ষ হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমএস/