দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্মুক্ত মঞ্চে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে দেওয়া এ প্রস্তাবকে ভাইরাল হওয়ার একটি কৌশল বলে মনে করছে বিএনপি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রচারণার শেষ সময়ে এসে এমন প্রস্তাব স্রেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার একটি কৌশল হতে পারে।
বিএনপির নির্বাচনী মুখপাত্র আরও বলেন, এই বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা হয়নি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ফেসবুকে একটা পোস্ট করা এবং তারেক রহমানের অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করা বেশ চটকদার একটা বিষয়। আগামীকাল, পরশুদিন চেয়ারম্যানের শিডিউল খালি নেই। তবে আমরা বলি কী, এই যে পলিসি ডিবেটের কথা বলা হচ্ছে, বিএনপি তো হুট করে পলিসিটা দেয়নি। আপনারা ২০১৩ সালে জুলাই মাসে তারেক রহমানের একটা বক্তব্য যদি দেখেন, ফেসবুকে আছে, ইউটিউবে আছে—একটি ইফতারের প্রোগ্রামে উনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার অনেকটুকুই কিন্তু ইলেকশন ম্যানিফেস্টোতে আমরা দেখতে পেয়েছি। অর্থাৎ ২০১৩ সালে উনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সেটি কিন্তু তারও আগে প্রায় কয়েক দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ছিল। আমরা দেখলাম তারেক রহমান গত প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে অনেকগুলো সুবিন্যস্ত, সুনির্দিষ্ট পলিসির কথা বলেছেন। ফ্যাসিবাদের সময় যখন আইন-আদালতের মাধ্যমে উনার বাকস্বাধীনতাকে হরণ করে উনার বিভিন্ন বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছিল, আপনারা সেগুলো হয়তো সেভাবে প্রচার করতে পারেননি। কিন্তু বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার উনার সেই বক্তব্য, বিবৃতি, পলিসির আলোকেই নির্ধারিত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আলোচনা, কোনো সমালোচনা, কোনো যৌক্তিক বয়ান তৈরি না করে হুট করে নির্বাচনের আগে পলিসি ডিবেটটা কেন—এটা যেমন একটা প্রশ্ন রাখে, একইভাবে আমার জানামতে জামায়াতের যিনি আমির রয়েছেন উনার কোনো পলিসি পোস্ট আমি গত দেড় বছরে তো দেখিনি। তার আগে গত ১৬ বছর ১৮ বছরে কখনোই দেখিনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি থেকে আমরা যে ম্যানিফেস্টো করেছি, ডিফারেন্ট প্রফেশনাল টিমসরা কাজ করেছে, উনার ভিশনকে সামনে রেখে। জামায়াতের আমিরের ক্ষেত্রে কি এটাই প্রযোজ্য নাকি উনার টিম মেম্বাররা করেছেন, উনি শুধু ওয়াকিবহাল হয়েছেন—সেটা আমরা জানি না।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতা ও স্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, একদিকে জামায়াত আমিরের পুরোনো বক্তব্যে নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে ঘরের দিকে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার এখন তারা নারী মন্ত্রী করার কথা বলছে—অথচ এই নির্বাচনে তারা একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি।
এর বিপরীতে বিএনপিকে ‘নারীর ক্ষমতায়নের দল’ হিসেবে দাবি করে তিনি জানান, বিএনপির হাত ধরেই দেশে নারী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিপ্লব ঘটেছে এবং তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পরিকল্পনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
পোস্টে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর তরুণ প্রজন্মের প্রতি রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। রাজনীতি যে শালীন, সহনশীল ও সংঘাতমুক্ত হতে পারে—তা প্রমাণ করার সময় এখনই। গণমাধ্যম ও জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যত শাসনের জন্য এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করা প্রয়োজন, যা হবে সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ।
তারেক রহমান যেহেতু ইতোমধ্যে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, সে প্রেক্ষাপটে তিনি একটি উন্মুক্ত মঞ্চে সরাসরি আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে উভয়পক্ষ নিজ নিজ ইশতেহার জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারবে এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে—কোন পথ বাংলাদেশের জন্য উত্তম। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় শুরুর আহ্বান জানান, যেখানে সবাই জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অঙ্গীকার করবে।
এবি/