দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নতুন করে দিল্লির তাঁবেদারি যারা করতে চায়, তাদের রাজনীতি বাংলাদেশে আর কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি— বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হবে ঢাকা থেকে, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ করবে এদেশের জনগণ। দিল্লির তাঁবেদারি যারা করে এসেছে এবং নতুন করে দিল্লির তাঁবেদারি যারা করতে চায়, তাদের রাজনীতি বাংলাদেশে আর কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না। আমরা জীবন দিয়েছি, আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত আছি; কিন্তু আজাদি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা এক বিন্দুও ছাড় দেব না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্টের পর নতুন কোনো জালিমের আবির্ভাব দেখতে চায় না। যারা নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু করেছে, নতুন করে জমি দখল শুরু করেছে, নতুন করে মানুষকে নির্যাতন করছে, পাথর মেরে মানুষকে হত্যা করছে, তারা আইনত জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির বিচারের প্রশ্নে আমরা এক বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব না। শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করতে না পারা, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। এখনও সময় আছে, শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে যাতে কোনো ধরনের অসম্মান করা না হয় এবং অতিসত্বর এই বিচারের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে।
বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা দেখছি শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, যারা হত্যা করে লাশের উপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় পুরোনো কায়দায়, ফ্যাসিস্টদের কায়দায়, তাদেরকে রুখে দেওয়ার দিন হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
তিনি বলেন, আমাদের মা-বোনদেরকে তারা ভয় পাচ্ছে, কারণ আমাদের মা-বোনেরা, মহিলারা ১১ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করে ফেলেছে, আমাদের তরুণ সমাজ গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে, ফলে তারা সেই গণজোয়ারকে ভয় পাচ্ছে। আমাদের মা-বোনদেরকে তারা টার্গেট করছে, তাদেরকে আক্রমণ এবং হেনস্থার চেষ্টা করছে প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি একটি দল যারা অনেকগুলো দলকে নিজেদের পেটের ভিতরে নিয়ে নিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্রকে নষ্ট করে দিয়েছে, সেই দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন যায়গায় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা বলছি সেই হুমকি এবং রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই আমরা ৫ আগস্ট ঘটিয়েছিলাম, আমরা কোনো হুমকি এবং রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। সেই দলের নেতা যখন দেশে এসে নামলেন তিনি বললেন তার একটি প্ল্যান রয়েছে, আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি, আমরা প্ল্যান থাকলে প্ল্যান শেয়ার করে চাই বাংলাদেশ পরিবর্তন হোক। আমরা সম্প্রীতির রাজনীতিই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি তিনি কোথায় চিনিকল আছে কোথায় নাই, কোথায় ইপিজেড আছে কোথায় নাই, কোনটা বাণিজ্যিক রাজধানী, কোনটা কি হবে, কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয় উনি কিছুই জানেন না। যার দেশ সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, যিনি ১৬-১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, যিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন তার দেশ নিয়ে কি প্ল্যান রয়েছে, সেটি জনগণ বুঝে গেছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষকে আর কোনো প্রতারক, আর কোনো বেঈমানদের কাছে আমরা দেশের ক্ষমতা দেশের দায়িত্ব দিতে চাই না।
বাংলাদেশের মানুষ এখন নতুনদেরকে সুযোগ দিতে চায় উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে আপনারা বাংলাদেশে যা করেছেন সেটাই যথেষ্ট আপনাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার। আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। কথা দিচ্ছি যদি আমাদের বিরুদ্ধেও ভোট দেন, আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য আমরা জীবন দিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ। আপনারা ভোটকেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন কিন্তু কেউ যদি ভোট চুরির চেষ্টা করে, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে তার পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এরকম কোনো চেষ্টা করা হলে আরেকটি ৫ আগস্টের বিপ্লব ঘটে যাবে।
আয়োজিত জনসভায় ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টারসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এবি/