দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যে দলের কাছে তার নেতাকর্মী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিরাপদ নয়, সে দলের কাছে দেশের ২০ কোটি মানুষও নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের মানুষ এখন ১১ দলীয় জোটের কাছে নিরাপদ বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, এক স্বৈরাচারকে হটিয়ে নতুন স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসাতে চাই না। সে জন্য আমরা গণঅভ্যুত্থান করিনি। একটি রাজনৈতিক দল জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে সংস্কার চাচ্ছে না। তারা লুটপাট ও অর্থপাচারের পরিকল্পনা করছে। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। অর্থনীতি চাঙা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এর আগে দুর্বৃত্তদের রাজনীতি ধ্বংস করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের ঘোড়াশালের পোস্ট অফিস রোডে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি দল প্রথম থেকেই সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছে। তারা ফ্যাসিবাদী আমলে ৩১ দফা দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখলাম তারা এই প্রতিশ্রুতিতে নাই। তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে সকল সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই আপনার মিলিয়ে নেবেন কে কি প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তা কতটুকু রক্ষা করে। জনগণের কাছে কথা দিলে তো কথা রক্ষা করতে হবে। আগামী নির্বাচনে তারা বিজয়ী হলে তাদের দেওয়া একটি কথাও তারা রাখবে না।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা বলেছিল, দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াবে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য হয় নাই ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ার। এই দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য এই দেশে থেকে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবার আমরা দেখতে পাচ্ছি কীভাবে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন করে টাকা পাচার ও লুটপাটের প্ল্যান করা হচ্ছে। এই সকলের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে আপনাদের জবাব দিতে হবে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা বলতে চাই আমরা কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। এই অর্থনীতিকে আবার চাঙা করতে হলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান এই ৩টি সেক্টরে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এর জন্য দেশের দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণকে এবার ঠিক করতে হবে তারা কোন দলের কাছে নিরাপদ।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বড় বড় কথা, মিথ্যা মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতায় আসার যে রাজনীতি। সেই রাজনীতি শেষ করে দিয়েছি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ মানুষ এখন সচেতন। ভোটকেন্দ্র দখলের যদি কোনো পাঁয়তারা থাকে পলাশবাসী তা প্রতিহত করবে। সারা বাংলাদেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে। ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো প্ল্যান, ভোট চুরি করে নির্বাচনের জয়ের যেকোনো প্ল্যানকে আমরা পরাস্ত করবো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
এবি/