দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নির্বাচনী জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে ‘ভাগ্য পরিবর্তনের আশ্বাস’ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি সরকার গঠন করলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ভাষানটেকের বিআরবি ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় নানান শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ আশ্বাস দেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। ভাষানটেক এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি এই জনগণের পাশে কারা এসে দাঁড়িয়েছে। কাজেই আমরা যদি অতীতের সবগুলো কাজ বিবেচনা করি, আমরা দেখব, একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে এই দেশের মানুষ, ততবারই এই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ভোট চেয়ে যাচ্ছি।’
এসময় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান। এই এলাকায় বড় হয়েছি। তাই এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও সমস্যার দায় আমি নিতেই চাই। সুযোগ পেলে ইনশা আল্লাহ এসব সমস্যার সমাধান করব।’
এর আগে তারেক রহমানের জনসভায় অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই ভাষানটেক ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপির হাজারো সমর্থক বিআরবি ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে উপস্থিত নেতা–কর্মীরা করতালি ও স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান।
মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করার আগে দর্শকসারিতে থাকা কয়েকজনকে কাছে ডাকেন তারেক রহমান। তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শোনার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ভোটারদের কাছ থেকেই জানতে চান।
ভাষানটেকের ভ্যানচালক মো. জুয়েলকে সামনে এনে তারেক রহমান জানতে চান, এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? জুয়েল বলেন, ‘আমাদের থাকার জায়গা নাই। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চাই।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের পাশেই ক্যান্টনমেন্ট এলাকা—সুশৃঙ্খল ও সুন্দর। কিন্তু ভাষানটেক খুব অনুন্নত। আমরা চাই, এই এলাকার উন্নয়ন হোক।’
লিলি নামের এক বস্তিবাসী নারী বলেন, ‘আমাদের কিছুই নাই। পুনর্বাসন চাই, ফ্যামিলি কার্ড চাই।’ শান্তা নামের আরেকজন বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ নেই।
সমস্যা ও প্রত্যাশাগুলো শুনে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন—পুনর্বাসন, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থান—ইনশা আল্লাহ, বিএনপি সরকার গঠন করলে এগুলো আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করব।’
‘স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এবার দেশের প্রতিটি খাতকে পুনর্গঠন করতে হবে। সে দায়িত্ব জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই নিতে পারে,’ বলেন তিনি।
আসছে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণ যতবার ধানের শীষকে ভোট দিয়েছে, ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা আমাকে আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, যাঁরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছেন, তাঁদের অনুরোধ করুন, ১২ তারিখে ধানের শীষকে ভোট দিতে।’
গত ১৫–১৬ বছরে দেশের প্রতিটি খাত ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশ নতুনভাবে সামনে এগোতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ ভালো পরিবর্তন চায়। যে পরিবর্তনে মানুষের সমস্যা সমাধান হবে, নিরাপত্তা বাড়বে, তরুণদের কর্মসংস্থান হবে, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ তৈরি হবে।
অতীত সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ায় জনগণের সমস্যার সমাধান না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের নির্বাচনে যারা এমপি হয়েছিলেন, তারা কি আপনাদের পাশে ছিলেন?’
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছাড়া সমস্যার সমাধান অসম্ভব, বলেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া মানুষের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। মানুষ যদি নিজের ভোটে প্রতিনিধি না বেছে নিতে পারে, তাহলে কার কাছে সমস্যা নিয়ে যাবে?
নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মা-বোনের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব।’
গ্রাম থেকে আসা কৃষিশ্রমিক ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষক সহজে কৃষিঋণ, কৃষি বিমা এবং সার–বীজের সব ধরনের সুবিধা পাবে।
এবি/