দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামি, যেখানে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে এবং ভোটাররা ভয়ে বা জোরাজুরি ছাড়া স্বস্তিতে ভোট দিতে পারবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিরপুরে আহত নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ের মানুষ অনেক সচেতন। আর এখন আর মব কিংবা জোরপূর্বক জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ। নির্বাচনী প্রচারণায় সবাই তাদের দলের অঙ্গীকার, বক্তব্য, চরিত্র ও কার্যক্রম নিয়ে জনগণের কাছে যাবে এবং ভোটাররা অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজেদের আস্থা স্থির করবেন।
তিনি আরও বলেন, যদি দলের কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানালে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রকার মব সৃষ্টি করতে চায় না এবং এ ধরনের নোংরা ঘটনা বন্ধ করার পক্ষে।
৩০০ আসনে প্রার্থীদের প্রতি তার অনুরোধ, “দয়া করে জনগণের ওপর আস্থা রাখুন। ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে পছন্দমতো প্রতীক বাক্সে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন।” তিনি বলেন, ভোটারদের সহযোগিতা করা প্রত্যেক প্রার্থীর দায়িত্ব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামি দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এমন একটি সমাজ গড়তে চান যেখানে ফ্যাসিজম থাকবে না। তিনি জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে জামায়াতে ইসলামি অংশগ্রহণ করবে।
জামায়াত আমির বলেন, “যদি নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোনো কায়দায় পরিবর্তন করার চেষ্টা হয়, তাহলে তা আজকের জাগ্রত যুবসমাজ মেনে নেবে না।” কারণ যুবসমাজ বুকের রক্ত দিয়ে পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে। তিনি বলেন, ভোটের মাঠে যদি কেউ জোরপূর্বক ভোট আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে যুবসমাজ ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।
তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামি এ লক্ষ্যে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
গতকাল বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ডা. শফিকুর রহমান তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “হামলা শুধু আমাদের ভাইদের নয়, মা-বোনদের ওপরও হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা আর এই ধরনের নোংরা অবস্থা দেখতে চাই না।”
নির্বাচন কমিশনকে তিনি সরাসরি বললেন, “আপনাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সবার জন্য সমান ও সমতল নির্বাচনী মাঠ নিশ্চিত করতে হবে। যারা সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি জানান, মামলার দিকে এখনো যাওয়া হয়নি, কারণ সেটাই চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে এসব মোকাবিলা করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, মায়েদের ওপর হাত তোলা, মসজিদের ভেতরে গালিগালাজ করা, মানুষের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চুপ করে থাকা এসব কি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ?
তিনি পুনরায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সকল নাগরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা জনগণের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। যদি এটাই মাথা গরম হওয়ার কারণ হয়, তাহলে বলব ভালো কোনো কর্মসূচি নিয়ে আসুন। তবে আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না।