দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জানিয়েছে, তারা এককভাবে ২৬৮ আসনে লড়বে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আসন সমঝোতার আলোচনায় তাদের আমির সৈয়দ রেজাউল করিমকে ‘অপমান’ করেছেন বলেও অভিযোগ দলটির।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, ‘ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত’ ও ‘ইনসাফের দিক থেকে বঞ্চিত হওয়া’।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সারা দেশে ২৭০ আসনের মধ্যে আমাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে ২৬৮টি। সেই ২৬৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। ইসলামপন্থি শক্তির সকল ভোট একবাক্সে ফেলতে চাই।’
আতাউর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের আমির আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে সমঝোতা ভাগাভাগি করার কথা বলেছেন। এরপরে আমাদের মধ্যে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে—এই নির্বাচন পাঁতানো হবে কি না।’
‘ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনে ‘ওয়ান বক্স পলিসির’ কথা বলেছিলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একপর্যায়ে এসে আমরা দেখলাম, ওয়ান বক্স পলিসিকে ব্যবহার করে কেউ কেউ ক্ষমতায় যাওয়ার এই ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না।’
তিনি বলেন, গতকাল ১১ দলীয় জোটের একটি সংবাদ সম্মেলনে আসন ভাগাভাগি হয়েছে। আমরা দেখেছি শেষ পর্যন্ত এসে যে লক্ষ্য ছিল তা অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই চিন্তা থেকে আমরা মনে করলাম ইসলামের একটি বাক্সকে রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের দুঃখজনক বাস্তবতা হলো— জামায়াত আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করবেন। এ বিষয়টি যখন জানতে পারলাম আমরা বুঝতে আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না। ইসলামী আইনের প্রতি যদি আস্থা না থাকে, তাহলে আমাদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। আমাদের যেটা মনে হয়েছে, তারা ক্ষমতাটাকেই মুখ্য মনে করছে। আমরা তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে বাধা হতে চাই না।’
৫৪ বছরে প্রচলিত আইন ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, ‘প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে ইসলামের সুমহান আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আন্দোলন করি। তাই আমরা তাদের সহযোগী হতে প্রস্তুত নই।’
ইসলামী আন্দোলন ভাগাভাগি-সিলেকশনের নির্বাচন চায় না উল্লেখ করে দলটির এ নেতা বলেন, ‘কিন্তু আমরা সে আশঙ্কা করছি। আমরা শঙ্কিত, আগামী দিনে সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না। নাকি আমাদের সঙ্গে ঐক্য করে তলে তলে আবার কিছু হবে। আমরা মনে করছি এসব বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে, কি হচ্ছে সেটাও আমরা জানি না।’
তিনি বলেন, ‘ঐক্য হতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা-বিশ্বাস থাকা লাগে। কিন্তু এটি ভেঙে গেলে ঐক্য টিকে না।’
গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আসন কমবেশি হতে পারে। কিন্তু এখানে আমাদের আত্মসম্মানবোধে লেগেছে। এটাও একটু বলা প্রয়োজন— আসন সমঝোতায় ৯ ডিসেম্বরের সর্বপ্রথম আলোচনা হয়েছে দুই আমিরের। ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ওইদিন একান্তে আলোচনা করেন।’
প্রথম বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের আমিরকে জামায়াত আমির অপমান করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জরিপ প্রকাশ হয়। ৯ ডিসেম্বর প্রথম আলোতে একটি জরিপ প্রকাশ হয়েছিল। সেই জরিপে প্রকাশ হয়েছিল বিএনপিকে চায় ৬৫%, জামায়াতকে চায় ২৫%। সেখানে ইসলামী আন্দোলনেরও ছিল ০.১ শতাংশ। ওইদিন বসার পরই জামায়াত আমির বললেন— প্রথম আলোতে একটা জরিপ এসেছে দেখেন। এটার অর্থ হলো, তাকে (ইসলামী আন্দোলনের আমির) ইনসাল্ট করা, যে জনমতে আপনাদের পয়েন্টই নাই।’
ইনসাল্ট করে জামায়াত আমির যাত্রা শুরু করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমির আমাদের বলেছেন— তাদের কিন্তু মতলব ভালো নই। তারা হয়তো আমাদের সঙ্গে বেইনসাফি করবে। কারণ তিনি জরিপের কথা কেন আনলেন?’
এবি/