দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। সাবেক এ সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন ফ্ল্যাট রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা বুর্জ খলিফা, পাম জুমেইরাহ ও মারসাতে। পাশাপাাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটেও রয়েছে তার একাধিক বাণিজ্যিক ভবন।
দেশে-বিদেশে এ ব্যবসায়ীর বাড়ি-ফ্ল্যাট থাকলেও নেই গাড়ি। এছাড়া গত সাত বছরে তার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও একই সময়ে নগদ অর্থ, ঋণ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাল্লা দিয়ে বেড়েছে।
এ এমপি প্রার্থীর নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরামুজ্জামান এর আগেও একাধিকবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি পরাজিত হন। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।
তিনটি নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সাত বছরে একরামুজ্জামানের বার্ষিক আয় কমেছে প্রায় পৌনে চার গুণ। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়িভাড়া থেকে আয় ১ কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় ৬৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৭৪ টাকা। তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার জাহানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৮ সালে আয় দেখানো হয়েছিল ১৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে একরামুজ্জামান আয়কর দিয়েছেন ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, একরামুজ্জামান এইচএসসি পাস, বয়স ৬৯ বছর এবং পেশায় ব্যবসায়ী। ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য তার নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২২৯ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬০২ টাকা নিজের নামে এবং ২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে।
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে সাতটি মামলা হয়েছে বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
বিপুল সম্পদের মালিক হলেও হলফনামায় একরামুজ্জামানের নামে কোনো গাড়ির তথ্য উল্লেখ নেই।
আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৬৫ কোটি ৩ লাখ ২ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৬ হাজার টাকা। দুই ছেলের মধ্যে একজনের সম্পদ ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং অন্যজনের সম্পদ ১ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি।
একরামুজ্জামানের স্থাবর সম্পদ রয়েছে মোট ৮২ কোটি ৯৯ লাখ ৫ হাজার টাকার। এর মধ্যে নাসিরনগর, মুক্তাগাছা, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহে ৫ কোটি ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৭ টাকার ২ হাজার ৪৩ শতাংশ কৃষিজমি; নাসিরনগর, পূর্বাচল ও রূপগঞ্জে ১১ কোটি ৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকার ৭৫৮ শতাংশ অকৃষিজমি; ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ৩৬২ শতাংশ জায়গায় ৪৬ কোটি ২১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের ভবন, উত্তরায় ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জায়গায় ১০ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা মূল্যের বাড়ি আছে। স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ আছে মোট ২ কোটি ৩৩ লাখ ৭ হাজার টাকার।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক জীবনে একসময় তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা করা হলেও তাঁর দাবি, কমিটি ঘোষণার পরপরই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এবি/