দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক আপোশহীন বীর যোদ্ধা। তাকে হত্যা করে কেউই দেশের আদর্শিক ভিত্তিকে পরিবর্তন করতে পারবে না। বরং এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যাকারীরাই নিজেদের ভয় ও পরাজয় প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হলরুমে ‘ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরাম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করা হয় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনায়।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, যারা হাদিকে শহীদ করেছে তারা বড় ধরনের ভুল করেছে। হাদির জানাজায় মানুষের ঢল দেখেই তারা সেই ভুলের গভীরতা বুঝতে পেরেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, জুলাই ও আগস্টের যে আদর্শিক ভিত্তির ওপর বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে একজন হাদিকে হত্যা করে সেই আদর্শকে বদলে দেওয়া যাবে না। একজন জুলাই যোদ্ধাকে হত্যা করে দেশের আগামীর সম্ভাবনার ধারাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে এমন ধারণা যারা পোষণ করে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
তিনি আরও বলেন, যারা শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত, তাদের মৃত্যুর ভয় দেখানো যায় না। জুলাই যোদ্ধা তরুণ বিপ্লবীরা মৃত্যুকে ভয় পায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় বক্তারা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, হাদি সমাজ ও রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি ছিলেন আপোশহীন, যার কাছে আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী শক্তি পরাজিত হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি প্রার্থী মওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদের অনেককেই শহীদ হতে হয়েছে। শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।” তিনি বলেন, বিপ্লবীদের দমন করা যায় না, হাদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও অসংখ্য হাদির আবির্ভাব ঘটবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, শহীদ ওসমান বিন হাদি শুধু একটি নাম নয়, তিনি একটি ইতিহাস। আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান নিয়েছিলেন হাদি এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতেন।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি প্রার্থী মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে ঠাকুরগাঁও থেকে যারা এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তারা জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনে তারাই ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবেন, ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ হাদি দেখিয়ে গেছেন কীভাবে ইনসাফের জন্য লড়াই করতে হয় এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সবাইকে হাদির মতো হতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপোশহীন ভূমিকা রাখতে হবে।
ঠাকুরগাঁও উন্নয়ন ফোরামের ভাইস-চেয়ারম্যান আমিনুর ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ইকবাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি বেলাল হোসাইনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জে আই