দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে আইন উপদেষ্টার একক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটি বলেছে, একজন উপদেষ্টা রাষ্ট্রের নিরপেক্ষ আইন উপদেষ্টা, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন। তাই কোনো নির্দিষ্ট দলকে এককভাবে আশ্বাস দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
শনিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, আইন সংশোধনের মতো সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও জনস্বার্থনির্ভর প্রক্রিয়া। তাই সরকারের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট দলের দাবির সঙ্গে একমত হওয়ার ইঙ্গিত জনআস্থা দুর্বল করবে এবং সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, উপদেষ্টা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের বিপরীতে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।
জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করলে তা আইনি বৈপরীত্য সৃষ্টি করে এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দুর্বল করে। এতে ভোটার বুঝতে পারেন না, তিনি আসলে কোন দল বা নীতিকে ভোট দিচ্ছেন, ফলে দায়বদ্ধতার সম্পর্ক ভেঙে যায়।
চিঠিতে বলা হয়, এ বিধান বড় দলগুলোর জন্য কাঠামোগত সুবিধা তৈরি করে। তারা ছোট ছোট ‘প্রক্সি দল’ গড়ে নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করায়, যা গণতান্ত্রিক বৈচিত্র্য নষ্ট করে ও প্রকৃত মতামত প্রকাশের পথ সংকুচিত করে।
দলটি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত জানিয়ে বলেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ২০ অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত—কোনো নিবন্ধিত দল অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মতে, এ ধরনের সংশোধন প্রকৃত গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদকে শক্তিশালী করবে এবং প্রতিটি দলকে নিজেদের নীতি, নেতৃত্ব ও দায়ভার বহনের সুযোগ তৈরি করবে।
চিঠির শেষে দলটি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানায়।
এমএস/