দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ‘শাপলা’ প্রতীক চাওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) এ প্রতীক দেয় তাহলে তিনি কোনো মামলা করবেন না। মান্নার এ সিদ্ধান্তে পর এনসিপি জানায়, তাদের শাপলা প্রতীক পেতে আর কোনো আইনি এবং রাজনৈতিক কোনো বাধা-ই অবশিষ্ট রইল না।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মান্না এ কথা জানিয়েছেন।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘আমাকে যদি জাতীয় প্রতীকের কারণে শাপলা না দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন আর কাউকে দিতে পারে না। তবে ওরা (এনসিপি) আমার কাছে এসেছিল। যারা জুলাই অভ্যুত্থান করেছে, তাদের বয়সের কারণে, অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ উৎখাতের কথা বিবেচনা করে আমি তাদের প্রতি দরদি। শাপলা প্রতীক যদি তাদের দিয়ে দেয়, আমি একটা অঙ্গীকার করতে পারি- আমি কোনো মামলা করবো না।’
মান্নার এ পোস্ট তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার পোস্টকে স্ক্রিনশট নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছে।
পোস্টে লেখে, অবশেষ এনসিপি'র শাপলা প্রতীক পেতে আর কোনো আইনি এবং রাজনৈতিক কোনো বাধা-ই অবশিষ্ট রইলো না। নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দিতে প্রথমে যখন আইনি বাধা দেখালো, তখন এনসিপি'র লিগ্যাল উইং হাতে-কলমে ধরে ধরে বুঝিয়েছে যে এনসিপি'র শাপলা প্রতীক পেতে কোনো আইনি বাধা নেই। তখন নির্বাচন কমিশন হাজির করলো রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। এনসিপি বললো কী সেটা? তারা জবাবে বললো শাপলা প্রতীক আপনাদের আগে নাগরিক ঐক্য চেয়েছে। তাই শাপলা দিলে তাদেরকেই দিতে হবে। কিন্তু আজ যখন নাগরিক ঐক্যের সম্মানিত সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জানিয়ে দিলেন যে, এনসিপিকে শাপলা দিলে তাদের দল থেকে কোনো মামলা করা হবে না। তখন নির্বাচন কমিশন যে রাজনৈতিক বাধার কথা বলেছিল সেটিও আর থাকছে না। অর্থাৎ, শাপলা পেতে আইনি এবং রাজনৈতিক কোনো প্রতিবন্ধকতাই নেই।
ফেসবুক পোস্টে আরও লেখে, আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট করে বলতে চাই আপনারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন, স্বেচ্ছাচারিতা পরিহার করুন, দলীয় প্রভাব থেকে বের হয়ে জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠুন।
এনসিপি প্রথমে শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোনের মধ্যে যেকোনো একটি প্রতীক তাদের দেওয়ার জন্য আবেদন জানায়। তার কিছুদিন পর সে আবেদনে সংশোধন এনে শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা দেওয়ার জন্য আবেদন করে।
তবে ইসি বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে যে ১১৫টি প্রতীক আছে সেখানে শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা নেই। তাই শাপলা প্রতীক এনসিপি পাবে না। এর বিকল্প হিসেবে খাট, থালা, বেগুন, বালতিসহ ৫০টি প্রতীক থেকে নিজেদের প্রতীক বাছাই করতে দলটিকে চিঠি দিয়েছে ইসি। আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে এসব প্রতীকের মধ্য থেকে একটি প্রতীক বেছে নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংস্থাটির নির্বাচন সহায়তা শাখার উপ-সচিব মো. রফিকুল ইসলাম এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।
এফএইচ/