দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) মধ্যে বেশ কয়েক দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এক পক্ষ মানববন্ধন ও প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদানের মতো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করলে অন্য পক্ষও একই স্থানে একই কর্মসূচি ঘোষণা করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে আসছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে এমন কর্মসূচি ঘিরে একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটতে যায়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়নি।
সোমবার (১৯ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়ে বসে বায়রার সদস্যরা। এক পক্ষের ডাকা সংবাদ সম্মেলনে আরেক পক্ষ হামলা চালায়। পরে শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন। সিন্ডিকেট বাস্তবায়ন করার জন্য সে বায়রার ২ হজার ৫০০ সদস্য থেকে শতাধিক সদস্যকে লালন পালন করেছে। ফ্যাসিবাদী আমলে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের নিয়ে সে বারবার সিন্ডিকেট করেছিল। সালমান এফ রহমান ও লোটাস কামাল , বেনজির আহমেদ , নিজাম হাজারী ও জেনারেল মাসুদ ছিল তার অতি ঘনিষ্ট। তাদেরকে নিয়েই তিনি সিন্ডিকেট করেছিলেন।
জানা যায়, যে জেনারেল মাসুদ বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কোমর ভেঙে দিয়েছিল, সেই মাসুদই রুহুল আমিন স্বপনের সবচেয়ে ঘনিষ্ট। অথচ বিএনপি নামধারী কিছু লোক তাদের সাথে একাত্ম হয়ে পূর্বের ন্যায় একই ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীর মাধ্যমে এখন সিন্ডিকেট কায়েম করতে চায়। সিন্ডিকেটের বিরোধিতা করার কারণে রুহুল আমিন স্বপন ২০১৬ সালে ইউনাইটেড এক্সপোর্ট এর রফিক সাহেবকে কিডনাফ করেছিল। মাইক্রো এক্সপোর্ট এর মোস্তফা মাহমুদ ও তাজু দারোগার অফিসে মাস্তান দিয়ে আক্রমণ করিয়েছিল। ২০১৬ সালে লেডিস ক্লাবে বায়রা সদস্যদের মিটিং এ আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে হামলা করেছিল। বায়রা সদস্যদের খাবার পর্যন্ত খেতে দেয় নাই।
এই রুহুল আমিন স্বপন ২০২৩ সালে সে তার পালিত লোকদেরকে দিয়ে বায়রার এজিএম এ বায়রার সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজের ওপর হামলা করেছিল। ৫ই আগস্টের পর দেশ থেকে পলাতক থাকার পরও সে তার বাহিনী দিয়ে বায়রা অফিসে ভাঙচুর ও হামলা করিয়ে রেহানা পারভীন, সোহেল ও জসিমকে আহত করেছিল। যা নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। গতকাল সোমবার( ১৯ মে) সেগুনবাগিচা সাগর রুনি হলে সংবাদ সম্মেলনে একই বাহিনী বায়রার সদস্যদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করেছিল।
বায়রার সদস্যরা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং সিন্ডিকেট বিরোধিতা কারীদেরকে বারবার সে আক্রমণ করেছে। আওয়ামী লীগ আমলে সে মন্ত্রী এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদেরকে ব্যবহার করতো। সে ছিল আওয়ামী লীগের অন্যতম ডোনার। শেখ হাসিনার বিনা ভোটের নির্বাচনে সে শত কোটি টাকা ডোনেশন দিয়েছিল। সালমান এফ রহমান তার অফিসে আসতো। সে সব সময় তার ব্যাক্তিগত অফিসে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের ছবি ব্যবহার করতো। সে রুহুল আমিন স্বপন এখন আবার মালয়েশিয়া শ্রম বাজারে সিন্ডিকেট করার জন্য বর্তমানে প্রভাবশালী ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা কর্মীকে ব্যবহার করছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাশুসন ইসমাইল এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চির সঙ্গে যৌথসভা শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, দীর্ঘ দিন বন্ধের পর আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালয়েশিয়া। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- জনশক্তি রফতানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সহযোগী এজেন্সি প্রথা বাদ দেওয়া।