দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইশরাক হোসেনের মামলার রায়ে এনসিপির উদ্বেগ অপ্রাসঙ্গিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিচার বিভাগের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের আইনজীবী।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) ইশরাকের পক্ষে তার আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম যুগ্ম জেলা ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এবং নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মার্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী ইশরাক হোসেন নির্বাচন কমিশন ও শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ৯ জনকে বিবাদী করে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে বিজ্ঞ আদালত রায় ঘোষণা করেন। মামলা নিয়ে এনসিপির উদ্বেগ অপ্রাসঙ্গিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিচার বিভাগের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং অবমাননার শামিল।
মামলায় শেখ ফজলে নূর তাপস বিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং মামলার জবাব দেন এবং একপর্যায়ে মামলা খারিজের জন্য দরখাস্ত করেন। বিজ্ঞ আদালত তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শেখ ফজলে নূর তাপসের আবেদন নামঞ্জুর করেন। সেই আদেশে অসন্তুষ্ট হয়ে বিবাদীপক্ষ হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করে দীর্ঘদিন মামলাটি আটকে রাখে। যার ফলে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরেও তাপসের সরাসরি হস্তক্ষেপে শুনানি বার বার পিছিয়ে যায়। ফলে বিবাদীপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ও জবাব দাখিল করা স্বত্বেও মোকদ্দমাটি দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মামলাটি ৫ আগস্টের পর দেশের বিচার ব্যবস্থা আওয়ামী সরকারের রাহু মুক্ত হওয়ায় হাইকোর্ট রিভিশন খারিজ করে নিম্ন আদালতে দ্রুত নিস্পত্তির জন্য পাঠালে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল পুনরায় মামলাটির শুনানি শুরু করেন।
আরও বলা হয়, এনসিপি আইনের ব্যাখ্যা এবং আইন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় তারা আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্তি করছে, একই সঙ্গে বিজ্ঞ আদালতের আদেশকে অবমাননা করছে। এছাড়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি কারণ নিয়ে এনসিপির বক্তব্য একেবারেই শিশুসুলভ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যে কোনো মামলায় দ্রুত নিষ্পত্তির বিজ্ঞ আদালতের একটি সহজাত ক্ষমতা, তাছাড়া ২০২০ সালে দায়েরকৃত মামলাটি ২০২৫ সালে নিষ্পত্তি হয় যেখানে দীর্ঘ ৫ বছরের অধিক সময় পার হয়েছে যা মোটেও সংক্ষিপ্ত সময় নয়। বরং মোকদ্দমাটি আরও পূর্বেই নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন ছিল। একটি নির্বাচন মামলার নিষ্পত্তি সংক্ষিপ্ত সময়ে হওয়া উচিত। এনসিপির এ জাতীয় বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। এছাড়া এ সংক্রান্ত যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ আইনি অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
এতে বলা হয়, আদালত যেকোনো রায় ডিক্রি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইন মেনেই রায় প্রদান করেন। এক্ষেত্রে কেউ যদি ন্যায় বিচার হয়নি বলে মনে করে তাহলে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ আছে এবং তার বক্তব্য উক্ত উচ্চ আদালতে রাখারও সুযোগ আছে। এভাবে প্রেস নোট দিয়ে বক্তব্য প্রদান দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা ও বিজ্ঞ আদালতকে অবমাননা ছাড়া কিছুই নয়। যেহেতু উক্ত রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সহিত আইন মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে। উক্ত রায়ে কোনো অসামঞ্জস্যতা না পাওয়ার পরই আইন মন্ত্রণালয়ে উক্ত রায়ের আইনি বিষয় যাচাই করে দেখার জন্য পাঠালে আইন মন্ত্রণালয় আইনি দিক দেখার পর উক্ত রায়ে কোনো প্রকার আইনি অসংগতি না থাকায় পুনরায় নির্বাচন কমিশনে ফাইল পাঠালে নির্বাচন কমিশন যথাযথ নিয়ম মেনেই জনাব ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসাবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করা হতে আমাদের বিরত থাকাই শ্রেয়। এ জাতীয় ন্যাক্কারজনক কাজ হতে বিরত থেকে গণতন্ত্র আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভোটাধিকার সর্বোপরি জনগণের ভোটের অধিকারসহ বিজ্ঞ আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এনসিপির প্রতি অনুরোধ রইল। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও সংগ্রামের পর অর্জিত রাহুগ্রাস মুক্ত বিচার ব্যবস্থাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করার সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আমাদের আকুল আবেদন রইল।
/অ