দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় এক ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন নাঈম গুরুত্বর অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তাকে মেরে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে মারধরের ঘটনা ঘটে।
রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালে নাঈম সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব আজিজুল হক আমার এলাকার বড় ভাই। আমাদের বাড়ি গাজীপুরে। বড় ভাই বারডেম জেনারেল হাসপাতালে আছেন জেনে সেখানে ছুটে যাই। হাসপাতালের চারতলায় গিয়ে দেখি রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব আজিজুল হক ও পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশিদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। আমিসহ ছাত্রলীগের আরও দুই নেতা মিলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, এডিসি হারুন ঘটনার একপর্যায়ে শাহবাগ থানার ওসিকে (তদন্ত) ফোন করে হাসপাতালে ডেকে নেন। পুলিশ গিয়ে আজিজুল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞানবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে মারধর করে। পরে হাসপাতাল থেকে পুলিশ জোর করে আজিজুলসহ তিন–চারজনকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যায়।
আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি ফোনে রমনা বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে মারধরের ঘটনাটি জানিয়ে শাহবাগ থানায় যাই। গিয়ে দেখি ওসি তদন্তের কক্ষে সবাইকে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে। তখন মারধর করছিলেন এডিসি হারুন ও ওসি। ওসির কক্ষের দরজা টেনে ভেতরে ঢুকতেই ১০ থেকে ১৫ জন আমার ওপর হামলা করে। আমার মুখে কিলঘুষি মারতে থাকে তারা। একপর্যায়ে আমাকে নিচে ফেলে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকে।

হাসপাতালের বিছানায় আহত নাঈম
ছেলে আনোয়ার হোসেনের পাশে বসে (হাসপাতালে) কাঁদছিলেন মা নাজমুর নাহার। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে এডিসি হারুন ও ওসি নির্মমভাবে পিটিয়েছেন। আমি শুধু বিচার চাই।
এদিকে মারধরের ঘটনায় রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর এডিসি হারুনকে প্রথমে রমনা বিভাগ থেকে সরিয়ে ডিএমপির দাঙ্গা দমন বা পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়।
পুলিশ, ভুক্তভোগী ও ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব আজিজুল হকের স্ত্রীর সঙ্গে এডিসি হারুন বারডেম হাসপাতালে আড্ডা দিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আজিজুল ছাত্রলীগ নেতাদের ডেকে নিয়ে সেখানে যান।
কী ঘটনা ঘটেছিল জানতে চাইলে এডিসি হারুন বলেন, বিষয়টি আপনারা অনুসন্ধান করে বের করেন।
রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব আজিজুল হকের স্ত্রীও ডিএমপির একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার। তিনি জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য বারডেম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এডিসি হারুন সেখানে গিয়েছিলেন তার সহকর্মী হিসেবে। হাসপাতালটি তার আওতাধীন এলাকায় বলেই সেখানে যান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নারী কর্মকর্তা বলেন, আপনারা সবকিছু জানেন। তারপরও কেন জিজ্ঞেস করছেন।
বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব আজিজুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানায় নিয়ে নেতাদের মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, এডিসি হারুন যতটুকু অন্যায় করেছেন, ততটুকু শাস্তি পাবেন।
নাঈমকে মেরে সামনের সব দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছে
থানায় মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, আমার কক্ষে কাউকে নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে। তাছাড়া ঘটনার সময় আমি থানায় ছিলাম না।
এ ঘটনায় সাবেক ছাত্রনেতাদের পক্ষে জসিম ঊদ্দিন ভূইয়া প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আরও বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের মত মহান পেশাকে যারা কলুষিত করতে চায়, অনতিবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে কাউকে বদলি বা প্রত্যাহার নয়, উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া তদন্ত কমিটির নামে কোনো গড়িমসি চলবে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, রাজপথে নেমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে, কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।
জেডএ