দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারের সাত মাসের কর্মকাণ্ড, তরুণদের কর্মসংস্থান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচার নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে ট্রানজিট বন্ধের হুঁশিয়ারি এবং জনগণের বিপক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখলে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির শীর্ষ নেতারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে তরুণদের রক্তদানের মধ্যে দিয়ে দেশে পটপরিবর্তন হয়েছে। সেটাকে শুধু ক্ষমতার পটপরিবর্তন হিসেবে দেখতে চাইনি। বর্তমান সরকার দল পটপরিবর্তনকে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হিসেবে দেখতে চেয়েছে। গত ৭ মাসে সরকার তরুণদের জন্য কি করেছে সেটা আপনাদের মুল্যায়ন করতে হবে।
এসময় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও দেশের স্বার্থে পানির হিস্যা নিশ্চিতের দাবি জানান নাহিদ। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে ট্রানজিট বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেন এনসিপি আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, যদি নদীতে পানি না আসে, তাহলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না। যদি পানি না আসে, তাহলে কোনো করিডোর হবে না, ট্রানজিট হবে না। যদি বাংলাদেশের নদীতে পানি না আসে, তবে কোন ভারতীয় চ্যানেল এদেশে চলবে না।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গোখরা সাপ। তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়েও অনেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। তাঁদের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যও আবার যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আপনি বাতির নিচের অন্ধকার দেখতে পান না। যারা আপনার সমস্যা তৈরি করবে, তাঁরা আপনার আশপাশেই রয়েছেন।
সরকারের গোয়েন্দা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকারের কাছে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকলেও আওয়ামী লীগের মিছিল, বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঠেকানো যাচ্ছে না। ঘটনা ঘটার পরও জড়িতদের গ্রেপ্তারের সক্ষমতা সরকার দেখাতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে না চায়, তাহলে তাদের জন্য আফসোস। নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনীতি পরিচালিত হোক, সেটিই আমরা চাই। কিন্তু সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে থাকলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক যুক্তি হারাবে।
কেএম