দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ও প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির স্বাধীনতাহীন ও নতজানু ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
তারা বলেন, সরকারের এমন বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে বলেছেন, প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শিরোধার্য, এ বিষয়ে পাল্টা মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না। এনসিপির নেতাদের দাবি, এ বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অবস্থান থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে শিরোধার্য মেনে ইসি সচিবের অবস্থান গ্রহণ প্রমাণ করে, কমিশন সংবিধান প্রদত্ত স্বাধীন ভূমিকা প্রয়োগ করতে পারছে না। সরকারের প্রভাব ও চাপে পড়ে নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিয়ে খামখেয়ালিপনা প্রদর্শন করছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ন্যূনতম নিশ্চয়তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচিত হয়ে আসার পর বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলীয়করণের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন পরিচালনার চেষ্টা ক্ষমতার লালসা ও অগণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকার তাদের দলের নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজনকে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাইছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বলেছে, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সরকারি প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি নির্বাহী বিভাগের সামনে নতি স্বীকার করে ইসির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার বিষয়ে কমিশনের অবস্থানের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্বাহী বিভাগের অবৈধ প্রভাব ও অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে দলটি।
এনসিপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনো মেরুদণ্ডহীন ও সরকারি ক্যাডারতন্ত্রের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন জনগণ মেনে নেবে না। সরকার যদি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দেয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনার অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটে, তাহলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবে এনসিপি।
এমএস/