দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে এক জমকালো গালা সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সরকারের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও তাঁদের সহধর্মিণী এবং বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তিন দশকের অংশীদারিত্ব, অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কে অ্যামচ্যামের অবদান স্মরণ করতেই এ আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর প্রদর্শিত হয় স্মারক প্রামাণ্যচিত্র ‘৩০ ইয়ার্স অব মেকিং পসিবিলিটিজ পসিবল’।
স্বাগত বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল তিন দশক আগের একটি স্বপ্ন থেকে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার পথে অ্যামচ্যামের যাত্রা তুলে ধরেন। তিনি চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক নেতৃবৃন্দের দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব ও অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রসঙ্গে তিনি ছয় মাস অন্তর মাইলফলক নির্ধারণ করে আগামী দুই বছরের একটি সুস্পষ্ট জ্বালানি রোডম্যাপ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, মেধাস্বত্ব অধিকার ও সাইবার নিরাপত্তায় অধিকতর মনোযোগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অ্যামচ্যাম ও এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সক্ষমতাকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মাইলফলক উদযাপনের অংশ হিসেবে অ্যামচ্যাম যাত্রার সূচনাকারী দূরদর্শী ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সাবেক সভাপতিবৃন্দ, সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং সকল সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁদের নেতৃত্ব, অংশীদারত্ব ও অবদানের কারণেই গত তিন দশকে অ্যামচ্যাম আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যের পর অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ বিভিন্ন খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন সম্মাননা ‘অ্যামচ্যাম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। অ্যামচ্যামের ৩০ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ৩০ বছর পূর্তিতে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশকে অভিনন্দন। গত ৩০ বছর ধরে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে, তেমনি আমি আত্মবিশ্বাসী যে, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) আওতায় বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলে আগামী ৩০ বছর এবং তার পরেও আমরা আরও ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাব।’
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, এমপি। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কে ৩০ বছরের অবদানের জন্য তিনি অ্যামচ্যামকে অভিনন্দন জানান।
আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার যে লক্ষ্য অ্যামচ্যাম নির্ধারণ করেছে, তাতে সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ বিনিয়োগ যেন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি নীতির পূর্বানুমেয়তা ও ধারাবাহিকতা, ব্যবসা সহজীকরণ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব নিয়ন্ত্রক পরিবেশের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
একই সঙ্গে নীতি-সহায়তায় এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে অ্যামচ্যামের ক্রমবর্ধমান সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনতে বর্তমান সরকার ও অ্যামচ্যামের যৌথ উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার হাবিব ভূঁইয়া সম্মানিত অতিথি, সদস্য ও তাঁদের সহধর্মিণী, শিল্পী এবং এই মাইলফলক উদযাপন সফল করতে অবদান রাখা সবাইকে অ্যামচ্যামের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি টাইটানিয়াম পার্টনার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক; গোল্ড পার্টনার বাংলা ট্র্যাক লিমিটেড ও ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেড; সিলভার পার্টনার সিএফ গ্লোবাল, সিটিব্যাংক এন.এ., এফভি বাংলাদেশ, মেটলাইফ, ট্রানসনিক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও ভিসাসহ অন্যান্য সম্মানিত পার্টনারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তাঁদের উদার সহযোগিতা ও অব্যাহত আস্থার কারণেই এ আয়োজন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সন্ধ্যার চূড়ান্ত আকর্ষণ ছিল বিশেষভাবে সাজানো সংগীতানুষ্ঠান ‘৩০ ইয়ার্স ইন ৩০ মিনিটস: দ্য লাইভ টাইম জার্নি’। এতে সংগীত পরিবেশন করেন পলাশ নূর ও তাশফি। শিকড়, সংযোগ, গতি, রূপান্তর ও সম্ভাবনা—এই পাঁচ পর্বে অ্যামচ্যামের তিন দশকের পথচলা তুলে ধরা হয়।
নৈশভোজ ও নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্য দিয়ে ৩০ বছরের অংশীদারিত্ব, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা উদযাপনের এ স্মরণীয় সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।
এমএস/