দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশের তরুণদের বাস্তবমুখী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে অনলাইনভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম আদিল ডিজিটাল অ্যাকাডেমি। শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ ক্যারিয়ার পরিবর্তনে আগ্রহীদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও শেখার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুধু একটি চাকরির ওপর নির্ভরশীল না থেকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের সামনে একাধিক ক্যারিয়ার ও আয়ের সুযোগ তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
আদিল ডিজিটাল অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান আদিল নিজেও ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট কাজের মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আপওয়ার্ক ও ফাইভারে তাঁর ৭ লাখ ডলারের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই প্ল্যাটফর্মেই তিনি টপ রেটেড প্লাস মর্যাদা পেয়েছেন এবং ১৫০টির বেশি মার্কিন ক্লায়েন্টের প্রকল্পে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে ৭৫ জনের বেশি সদস্যের রিমোট টিমও পরিচালনা করেছেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তৌহিদুর রহমান আদিল বলেন, দেশে প্রতিভার অভাব নেই; তবে সঠিক দিকনির্দেশনা, বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সুযোগের ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু একটি কোর্স শেষ করলেই কারও জীবন বদলে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। দক্ষতা অর্জনের জন্য সময় দেওয়া, নিয়মিত অনুশীলন এবং বাস্তব কাজের মতো প্রস্তুতি প্রয়োজন। তাঁদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় এই বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কোর্স হিসেবে রয়েছে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও এআই মাস্টারি। এতে ই-মেইল ও ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা, সিআরএম, প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা, কাস্টমার সাপোর্ট, গবেষণা, তথ্য ব্যবস্থাপনা, এআই টুলস এবং রিমোট কাজের বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানো হয়। ক্লাসের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ, অ্যাসাইনমেন্ট ও ব্যবহারিক কাজ দেওয়া হয়।
অর্থের অভাবে যেন কেউ দক্ষতা শেখা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেও বিনামূল্যে বিভিন্ন কোর্স ও শেখার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিনামূল্যের শেখার সুযোগের মাধ্যমে আগ্রহীরা নিজেদের পছন্দ ও সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে পারবেন।
অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে আদিল ডিজিটাল অ্যাকাডেমি। কোর্সে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ক্লাসের সময়সূচি, ক্লাসের সংযোগ, শিক্ষাসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারেন। পাশাপাশি কোর্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় সহায়তার জন্য রয়েছে কাস্টমার সাপোর্ট টিম।
শিক্ষার্থীদের শেখার পরবর্তী ধাপ নিয়েও তথ্য দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রিমোট চাকরি ও ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত সুযোগের তথ্য প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশ ও হালনাগাদ করা হয়।
তবে কোনো কোর্স সম্পন্ন করলেই চাকরি বা নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয় না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বরং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগে আবেদন করার জন্য প্রস্তুত করাই তাদের লক্ষ্য।
আদিল ডিজিটাল অ্যাকাডেমির দাবি, তাদের লক্ষ্য শুধু ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা নয়। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি যোগাযোগ, ক্লায়েন্ট ব্যবস্থাপনা, সময়সীমা মেনে কাজ করা, পেশাদার আচরণ ও কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলার মতো বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, ডিজিটাল দক্ষতা শুধু ফ্রিল্যান্সিং নয়; করপোরেট চাকরি, রিমোট কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা কার্যক্রম কিংবা প্রচলিত পেশাতেও এসব দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব।
আদিল ডিজিটাল অ্যাকাডেমির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন শেখার কার্যক্রম ও শিক্ষা উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১৭ সদস্যের একটি দল প্রশিক্ষণ, কনটেন্ট উন্নয়ন, শিক্ষার্থী সহায়তা ও পরিচালনাসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছে।
অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ছোট শহরের শিক্ষার্থীরাও এসব শেখার সুযোগ নিতে পারছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা ও কোর্স-সংক্রান্ত সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী কিন্তু প্রয়োজনীয় ডিভাইস কেনার সামর্থ্য নেই—এমন অসচ্ছল নারীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও প্রয়োজন বিবেচনায় ল্যাপটপ সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
প্রতিবন্ধী, অসুস্থ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ সুবিধা ও নমনীয় শেখার ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যতে আরও বিনামূল্যের শিক্ষাসামগ্রী, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ারভিত্তিক উদ্যোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে আদিল ডিজিটাল অ্যাকাডেমির।
প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদুর রহমান আদিল বলেন, সবাই ফ্রিল্যান্সার বা উদ্যোক্তা হবে—এমন লক্ষ্য তাঁদের নেই। তাঁদের লক্ষ্য হলো মানুষকে দক্ষ করে তোলা, যাতে একজন দক্ষ মানুষের সামনে চাকরি, রিমোট কাজ, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা নিজস্ব উদ্যোগ—একাধিক পথ খোলা থাকে।
এমএস/