দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান পশ্চিম এশিয়ার একটি অন্যতম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র। দেশটির আনুষ্ঠানিক নাম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান। রাজধানী তেহরান এবং ভাষা ফারসি। ইরান একসময় পারস্য নামে পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইরান ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ঐতিহাসিক ও সমৃদ্ধশালী দেশটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্প, স্বাস্থ্য, স্থাপত্য, কর্ম, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দারুন উন্নতি লাভ করে স্বনির্ভর এবং সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে পৃথিবীতে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে। ইরানের মোট আয়তন ১৬ লাখ ৪৮ হাজার। যা বিশ্বের মধ্যে ১৮তম। ইরানের পূর্বে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান পশ্চিমে ইরাক। উত্তরে তুর্কমেনি স্থান ও দক্ষিণে পারস্য সাগর।
গত তিন দশক ধরে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে আমেরিকা। দীর্ঘদিন যাবত পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি স্নায় যুদ্ধ চলে আসছে। ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তার চারপাশে প্রায় ২৫টি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে রেখেছে আমেরিকা। শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোকে শাসন করার এবং ইসরায়েলকে নিরাপদে রাখার জন্য। আমেরিকার সরকার ইসরায়েলকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্থ অস্ত্র-বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত।
১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ৬ দিনের যুদ্ধে মিশর জর্ডান সিরিয়া পিছু হটে ছিল। সে যুদ্ধে আমেরিকা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেনি। ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে বি টু (B2) বোমারু বিমান দিয়ে আক্রমণ করেছে। ইসরায়েল অত্যাধুনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোনসহ বিভিন্ন মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরান ও হাইপারসনিক বিমানসহ অন্যান্য খাইবার থাকান ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। উভয় দেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহামূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে। এবার যদি কোনো দেশ পারমাণবিক বোমার ব্যবহার করতো তাহলে সেটা হতো জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকি থেকে আরও ভয়াবহ।
আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে সেটা বৈধ এবং ইরান আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আক্রমণ চালালে সেটা হয় সন্ত্রাসী। পূর্বে ইরাকের মাটিতে ইরানের একজন জেনারেলকে হত্যা করেছে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের বিচক্ষণ ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেন কর্নেল গাদ্দাফিসহ অনেক মুসলিম নেতাকে নিষ্ঠুরভাবে মেরেছে। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নির্দয় নিষ্ঠুরভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। মীর জাফরের মতো মুসলিম দেশগুলোর নেতা ও জনগণ আমেরিকার পদলেহন করেছে। মুসলমানের দুশমন আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানকে চেয়েছিল এই পথে আনার জন্য। ইরান অনেক সামরিক কর্মকর্তাকে হারিয়েছে। তবু তারা বলেছে, ইরান আমেরিকার কোনো শর্ত রক্তচক্ষু পরোয়া করে না। তারা আত্মসমর্পণ করতে শেখেনি। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন যুদ্ধের শেষ ইতিহাস লিখবে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামিনি ট্রাম্পের দেওয়া হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরানিরা কোনো হুমকিকে পরোয়া করে না। তারা মুসলমান বীরের জাতি। কুরআন যাদের আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ মহামানব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম যাদের পথপ্রদর্শক, তারা কখনো আল্লাহর কাছে ছাড়া মাথা নত করতে শেখেনি।
পৃথিবীতে এক আজব নিয়ম নীতি পরিচালিত হচ্ছে। আমেরিকা রাশিয়া চীন জার্মানসহ অন্যান্য দেশ পারমাণবিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারবে আর অন্যান্য দেশগুলো এই কর্মসূচিকে স্পর্শ করতে পারবে না। আমেরিকা সব জায়গায় মোড়লপনা করতে পারবে অন্যান্য দেশ পারবে না এটা তো হতে পারে না। আজ যদি মুসলিম বিশ্ব এক থাকতে পারতো তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে এতগুলো ঘাঁটি আমেরিকা তৈরি করতে পারত না। দুঃখের বিষয় মুসলিম দেশগুলো এক হতে পারে না। এক্ষেত্রে সম্প্রতি ট্রাম্পকে দেওয়া সৌদি প্রিন্সের লাল গালিচা সম্বর্ধনা আমাদেরকে আহত করেছে। যে ভূমিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম শুয়ে আছেন মুসলমানদের পবিত্র ভূমিতে। ইসলাম বিদ্বেষী ট্রাম্পকে এনে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। সারা বিশ্বের বিবেকবান ও ধর্ম প্রাণ মানুষের নিকট সৌদি প্রিন্স ধিকৃত হয়েছেন।
ইসরায়েল ফিলিস্তিনের নিরপরাধ মানুষগুলোকে নিষ্ঠুরভাবে মেরে ফেলছে। প্রতিদিন ক্ষুধার্ত মাসুম শিশুগুলোর কান্না ইরানের সামরিক কর্মকর্তাসহ বেসামরিক মানুষগুলোর হত্যা নির্দয় নিষ্ঠুর সাইকো ট্রাম্প ও কসাই নেতানিয়াহুর হৃদয় গলেনি। নিরপরাধ মানুষ ও শিশু হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে এদের বিচার হওয়া উচিত। জেনারেল চসেসকুর মতো ফায়ারিং স্পটে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত। পৃথিবীতে ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে কেউ না থাকলেও আমি আইনে সাহায্য পেলে শয়তানের ভাই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা করতে প্রস্তুত আছি। এজন্য যদি আমার জীবন উৎসর্গ করতে হয়। তাতেও আমার দুঃখ নেই।
অন্যান্য বারের মতো এবারও জাতিসংঘের ব্যর্থ ও অসহায় মহাসচিব যুদ্ধে জড়িত ইরান ও ইসরায়েলকে নিবৃত্ত করতে পারেননি। তিনি বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু শয়তানের ভাই সাইকো ট্রাম্পকে যুদ্ধে না জড়াবার জন্য কোনো সাহস দেখাতে পারেননি। তিনি তো আমেরিকার পুতুল। আমেরিকা যেমনি নাচায় তিনি তেমনি নাচেন। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী স্বীকার করেছেন তাদের কমান্ডাররা তাদেরকে গ্রেনেড ও মরণাস্ত্র ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুদ্ধবিরতির পর ইরানের জনগণ রাস্তায় আনন্দ উল্লাস করেছে। এখন শহীদদের স্মরণে জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুসলিম বিশ্বকে শিক্ষা নিতে হবে কিভাবে শীর উন্নত করে বাঁচতে হয়। আপনারা ইরানকে অনুসরণ করুন তাহলে ইহকাল ও পরকালে শান্তি পাবেন।
আমেরিকা ও ইসরায়েল হলো মধ্যপ্রাচ্যের ক্যানসার। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল এবং সারা পৃথিবীতে আমেরিকা যুদ্ধ বাঁধিয়ে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে। ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ চলমান থাকলে আমেরিকার অবস্থা হতো ভিয়েতনামের মতো। ইরান সাহস করে তাদের ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছে। ট্রাম্প কুত্তার মতো লেজ গুটিয়ে ঘাটি থেকে যুদ্ধ সরঞ্জাম ও ও সেনাবাহিনীদেরকে সরিয়ে নিয়েছে। এটা কি আমেরিকার পরাজয় নয়। মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে এটা আমেরিকা ও ইসরায়েলের লজ্জাজনক পরাজয়। ইসরায়েলের জনগণ জীবন রক্ষার্থে বাঙ্কারে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এক লাখেরও বেশি ইসরায়েলি জনগণ ঘরবাড়ি গাড়ি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্তের জন্য ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছে। ইসরায়েলি জনগণ হাত জোড় করে কাঁদতে কাঁদতে ইরানিদের উদ্দেশে বলেছে, যা সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ অবলোকন করেছে।
লেখক: মো. আব্দুর রাজ্জাক
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সমাজকর্ম বিভাগ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, ঢাকা।
আরএ