দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বৃক্ষরোপণকে শুধু গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি গাছের জন্য ডিজিটাল পরিচয়, তথ্য সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে আই হ্যাভ এ প্ল্যান ফাউন্ডেশন। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করছে প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম ‘মাই ট্রি অ্যাপ’।
উদ্যোক্তাদের দাবি, মাই ট্রি অ্যাপের মাধ্যমে গাছ রোপণের সময় এর প্রজাতি, রোপণের তারিখ, রোপণকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, অবস্থান, ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। প্রতিটি গাছের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয় তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরবর্তীতে গাছটির পরিচর্যা, বৃদ্ধি, অবস্থান এবং বেঁচে থাকার অবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করা যাবে। ফলে একটি গাছ শুধু রোপণের সংখ্যা হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত হতে পারে।
মাই ট্রির অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা গাছের তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় বৃক্ষ তথ্যভান্ডারের ভিত্তি তৈরি করা।
উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, এনজিও ও সাধারণ নাগরিকদের মাধ্যমে রোপণ করা গাছের তথ্য একটি কাঠামোবদ্ধ ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে কোনো এলাকায় কতটি গাছ লাগানো হয়েছে, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে, কারা বা কোন প্রতিষ্ঠান রোপণ করেছে এবং গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এসব তথ্য ভবিষ্যতে বিশ্লেষণ করা যাবে।
বাংলাদেশ সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ ধরনের বৃহৎ কর্মসূচিতে শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যা গণনা নয়, রোপিত গাছের অবস্থান, তথ্য সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর্যবেক্ষণে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, জাতীয় বৃক্ষ তথ্যভান্ডার ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে। একই সঙ্গে জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং-সমন্বিত ওয়েব মানচিত্রভিত্তিক ড্যাশবোর্ড ও অ্যাপ তৈরিতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারিত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মাই ট্রি অ্যাপের ধারণাকে গাছ নিবন্ধন, যাচাই, মানচিত্রায়ন, পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সমন্বিত একটি ডিজিটাল কাঠামো হিসেবে তুলে ধরছেন উদ্যোক্তারা।
মাই ট্রি অ্যাপে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গাছ যাচাই, কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয়, জিপিএস ও জিআইএস মানচিত্রায়ন, স্যাটেলাইট ও এনডিভিআই পর্যবেক্ষণ, ড্রোনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং গাছের টিকে থাকার হার পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ ছাড়া ডিজিটাল বৃক্ষ সনদ, কার্বন তথ্য ও কার্বন ক্রেডিট-সংক্রান্ত সহায়তা, তথ্য বিশ্লেষণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মতো সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, এসব প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি গাছ রোপণের পর সেটিকে দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে।
মাই ট্রির মূল ধারণা হলো ‘একটি গাছ, একটি ডিজিটাল পরিচয়; প্রতিটি রোপণ, একটি যাচাইযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড।’
অর্থাৎ শুধু কতটি গাছ লাগানো হয়েছে, সেই হিসাবের পরিবর্তে কোথায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, কে বা কোন প্রতিষ্ঠান গাছটি লাগিয়েছে, কখন লাগানো হয়েছে, গাছটি বর্তমানে টিকে আছে কি না এবং সময়ের সঙ্গে এর কী পরিবর্তন হচ্ছে এসব তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণের লক্ষ্য রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রোপিত গাছের টিকে থাকার হার পর্যবেক্ষণ, অঞ্চল ও প্রজাতিভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনায় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শিক্ষার্থী, নাগরিক, প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও সামাজিক সংগঠনকে বৃক্ষরোপণ এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করারও সুযোগ রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, বৃক্ষরোপণকে এককালীন কর্মসূচি হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল বৃক্ষ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা। যেখানে প্রতিটি গাছের থাকবে আলাদা পরিচয়, প্রতিটি রোপণের থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড এবং ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের বৃক্ষসম্পদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভান্ডার।
যে আই