দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ স্বাধীন সম্রাটের পতন ঘটে। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল সুদীর্ঘ ১৯০ বছর ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন ও শোষণ করে। শুধু ভারতবর্ষ নয় একসময় তারা সারা পৃথিবী শাসন করেছিল। বিভিন্ন দেশে তারা উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করে অত্যাচার নিপীড়ন ও শোষণের মাধ্যমে সম্পদ লুটতরাজ করে নিজেদের দেশকে সমৃদ্ধশালী করেছিল। ভারতবর্ষে তারা হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে সুকৌশলে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ১৯২০ সালে ভারতবর্ষে আন্দোলন শুরু হয়। ভারতবর্ষে দুটি রাজনৈতিক দল ছিল।একটা ছিল সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যটি ছিল নিখিল ভারত মুসলিম লীগ। ১৯৩৯ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের সেরা রাজনীতিবিদ ও প্রখ্যাত ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ধারণা উপস্থাপন করেন। ১৯৪০ সালে একে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব পাঠ করেন। ব্রিটিশদের আগ্রাসন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ মুক্ত করার জন্য সুভাষ বসু, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মহাত্মা গান্ধী, পন্ডিত জহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এর মধ্যে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ব্রিটিশরা দারুন আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এর মধ্যে হিন্দু মুসলমানদের আন্দোলন সংগ্রাম চলতে থাকে। তাদের দাবির প্রতি সম্মান রেখে অবশেষে ভারতবর্ষের ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত মহাদেশকে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে ভাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন হিন্দু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে ভারত বর্ষকে ভাগ করা হবে। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠের ভিত্তিতে পাকিস্তান এবং ১৫ ই আগস্ট হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
এই দুটি দেশকে নিজস্ব ভূখণ্ড দেয়ার জন্য ভারতবর্ষের ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন তার খুবই কাছের একজন ব্যক্তিকে যিনি ব্রিটিশ সরকারের নিয়োগকৃত ব্যক্তি হিসেবে কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি হলেন খ্যাতনামা ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল রেড ক্লিপ। তিনি ১৯৪৭ সালের ৮ই জুলাই ভারতবর্ষে প্রথম পদার্পণ করেন। ভারতবর্ষের লোকদের ভাষা সংস্কৃতি পথঘাট মানুষজন সম্পর্কে তার কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না। একেবারে আনকোরা একজন ব্যক্তি। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত ও পাকিস্তানকে বিভাজনের জন্য রেডক্লিফকে যে মানচিত্র সরবরাহ করেছিলেন যা ছিল শত বর্ষের পুরানো মানচিত্র এবং ভুলে ভরা আদমশুমারি। তাকে সময় দেয়া হয়েছিল মাত্র ৩৫ দিন। তাকে সাহায্য করার জন্য যাদেরকে দেয়া হয়েছিল তারা পরস্পর বিরোধী তথ্য উপাত্ত দিয়ে তাকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। যার ফলে নতুন একটি অজানা অচেনা দেশে এসে সঠিক তথ্য ও পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে তিনি দু দেশের মধ্যে যে সীমারেখা টেনে দিয়েছিলেন তা ছিল চরম বৈষম্য। যা উপমহাদেশের দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে অদ্যাবধি চরম উত্তেজনার মূল কারণ।
পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর দু’দেশের মানুষেরা যখন আনন্দে আত্মহারা তখনো তারা জানতো না কোন দেশের মানুষ রেড ক্লিপ লাইনে পড়েছে। রেড ক্লিপ ১৭ই আগস্ট ১৯৪৭ যখন জনসম্মুখে প্রকাশিত হয় তখন সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে এবং মর্মাহত ও বিস্ময় প্রকাশ করেন মানচিত্র দেখে।ইতোমধ্যে রেডক্লিপ লাইন অতিক্রম করে এক কোটি বিশ লাখ মানুষ নতুন দেশের নতুন ঠিকানার খোঁজে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পাড়ি জমাচ্ছে। দেশভাগের একপর্যায়ে রাতারাতি উদ্বাস্তু হয়ে পড়ল কোটি কোটি মানুষ। এ সময় কেউ পাকিস্তান থেকে ভারতে আবার ভারত থেকে পাকিস্তানে অজানা উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল। ধর্মীয় সহিংসতায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয় আহত হয় লক্ষাধিক মানুষ। কত সন্তান মা হারা কত বাবা সন্তান হারা কত স্ত্রী স্বামীহারা কত মানুষ স্বজন দেশ ও মাতৃভ‚মিহারা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছিল সন্তান-সন্ততি ও মহিলাদের উপর বেশি।সেই থেকে ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক তিক্ততায় পরিণত হয়। দুই দেশ একে অপরের প্রতি কুৎসা আক্রমণাত্মক আচরণ বিষেদাগার করতে থাকে। যা ছিল খুবই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। পূর্বদিকে বাংলা এবং পশ্চিম দিকে পাঞ্জাব এ দুটি দেশ ভাগ করায় তাদের মনে চরমভাবে আঘাত হানে। ফলে ব্রিটিশদেরকে তারা স্মরণ করে ঘৃণা ভরে। ৫০ লাখ হিন্দু জনসংখ্যা পাকিস্তানের পাঞ্জাবে থেকে যায় এবং ৫০ লাখ মুসলিম জনসংখ্যা ভারতের পাঞ্জাবে রয়ে যায়।
ভারত বিভক্ত এবং স্বাধীন হওয়ার জন্য একটি আইন তৈরি করেছিল ইন্ডিয়ান ইনডিপেনডেন্স অ্যাক্ট ১৯৪৭। সেই আইনে দেশীয় রাজ্যগুলোকে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তারা ভারতের সাথে থাকতে পারে আবার তারা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হতে পারে অথবা তারা স্বাধীন রাজ্য হিসেবে থাকতে পারে। ভারতবর্ষে ৫৬৫ জন রাজা ছিল। নেহেরু এবং প্যাটেল ভাবগাম্ভীর্যের সাথে কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিল যে সকল রাষ্ট্র স্বাধীন হিসেবে থেকে যেতে চায়। তাদের কোন নিজস্ব সেনাবাহিনী থাকবে না এবং ভারত তাদেরকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে। এর ফলে রাজ্য সরকার গুলো ভয় পেয়ে যায়।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পরেও লর্ড মাউন্টব্যাটেন কে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি বললেন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে থাকাটা খুবই বিপদজনক। এরকম ভয়-ভীতি প্রদর্শন করার পর তিনটি রাজ্য ব্যতিরেকে ৫৬২টি রাজ্য তাদের পছন্দমত পাকিস্তান অথবা ভারতের সাথে মিশে গেল। বাকি থাকলেও জুনাগড় হায়দ্রাবাদ ও কাশ্মীর। প্রথম সমস্যা সৃষ্টি হল জুনাগড় রাজ্য নিয়ে। এই রাজ্যর শাসক ছিলেন মুসলিম যার জনসংখ্যার প্রায় ৮০% হিন্দু। শাসক পাকিস্তানের সাথে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও লর্ড মাউন্টব্যাটেনের হস্তক্ষেপে ও মধ্যস্থতায় ঠিক করা হলো জুনাগড়ের জনগণ কোন দেশের সাথে থাকতে চায় তার ওপরে মতামত গ্রহণ করা হবে। এর ফলে প্রায় ৯৭% মানুষ ভারতের সাথে থাকার পক্ষে মত দিল। আর হায়দ্রাবাদ হলো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। শাসক ছিলেন নিজামউল মুলক। তাকে অনেক ভয়ভীতি দেখিয়ে যখন ভারত সরকার বসে আনতে পারল না তখন ১৯৪৮ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ভোর চারটায় ভারতীয় সেনাবানী হায়দ্রাবাদ আক্রমণ করে। চারদিনের যুদ্ধে ভারত জয়ী হয়ে হায়দ্রাবাদ কে তাদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়।
আকারে বৃহত্তম অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি কাশ্মীর যাকে ভূ-স্বর্গ বলা হয়। কাশ্মীরে রাজা হরি সিং কখনো ভারত বা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চাননি। তবে তিনি ছিলেন একজন অত্যাচারী রাজা। তিনি মুসলমানদের উপর অমানুষিক নির্যাতন করতেন। তার আমলে মুসলমানেরা খুবই নিগৃহীত ও উপেক্ষিত ছিল। রাজা হরি সিং চারিত্রিকভাবে খুবই নষ্ট চরিত্রের একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি জুয়া নারী এবং পানাসক্ত ছিলেন। তার ছেলে ডক্টর করন সিংহ তার বাবাকে কঠিনভাবে সমালোচনা করতেন।
১৯৪৭ সালে ৬ দিনের সফরে লর্ড মাউন্টব্যাটেন রাজা হরি সিং এর সাথে দেখা করতে শ্রীনগরে গিয়েছিলেন। সেখানে তার সাথে কি কথা হয়েছিল সেটা আজ অবধি অজানায় রয়ে গেছে। জুনাগড়ের মত কাশ্মীরের জনগণের মতামত নেয়ার জন্য তিনি গণভোটের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সেটা করতে তিনি সমর্থ হননি। অথচ কাশ্মীরের মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ৮৬%। অন্যদিকে পাঞ্জাবে দাঙ্গার প্রভাব পড়ে কাশ্মীরে। পাকিস্তানের আদিবাসীরা দাঙ্গা হাঙ্গামায় সম্পৃক্ত হলে এই সময়ে পাকিস্তানের মিলিশিয়ারা কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে। ১৯৪৭ সালে অক্টোবর মাসে নেহেরুর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাশ্মীরে প্রবেশ করে। অবস্থা যখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা যখন তার নাগালের বাহিরে তখন রাজা হরি সিং ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে। ভারত সরকারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজা হরি সিং কে বললেন আগে ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে যাও। কোন উপায়ান্তর না দেখে রাজা হরি সিং ভারতের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৯ সালের পয়লা জানুয়ারি। পাকিস্তান কাশ্মীরের এক তৃতীয়াংশ দখল করে এবং ভারত দুই তৃতীয়াংশ দখল করে রাখল। যেখানে সম্পূর্ণ কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশে থাকার কথা ছিল যা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হলো এটা ছিল চরম বৈষম্য। এটাও যুদ্ধের অন্যতম কারণ। কাশ্মীর মূলত তিন ভাগে বিভক্ত। ভারতের হাতে রয়েছে জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখ। পাকিস্তানের হাতে রয়েছে আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত বালতিস্থান আর চীনের হাতে রয়েছে আকসায় চীন অঞ্চল। যা নিয়ে বহুদিন ধরে চলছে উত্তেজনা ও বিরোধ।
২২ শে এপ্রিল ২০২৫ মঙ্গলবার। সময় ২.৪৫ মিনিট পহেলগামে পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মায়াবী দৃশ্য উপভোগ করছিল। সেখানে হামলাকারীদের আক্রমণে ২৬ জন নিরীহ পর্যটক প্রাণ হারান। হামলাকারীরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিল। বারুদের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো,রক্তাক্ত হলো পহেলগামের জনপদ। বিশ্ব বিবেক দংশিত হলো। চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। কোনরকম তদন্ত ব্যতিরেকে এবং কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। ভারত সরকার কোন রকম তদন্ত না করে পাকিস্তানকে দোষারোপ করে তাদের উপর প্রথম যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সমর্থন করেনি। ভারতের মিত্র বলে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সমর্থন করেননি।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ৭ ই মে থেকে ১০ই মে ২০২৫ অপারেশন সিদুর পরিচালনা করে। মোদি সরকার মূলত চেয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করে নিজ দেশে তার জনপ্রিয়তা বাড়ানো কিন্তু সেটা হিতে বিপরীত হয়েছে। ভারতজুড়ে মোদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়ে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
সাতাশি ঘন্টার যুদ্ধে পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার বিলিয়ন ডলার ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট বিলিয়ন ডলার যুদ্ধে ভারতের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী উত্তর ভারতের আকাশ সীমা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বিমান চলাচল না করার জন্য। ভারতের আইপিএল বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫০ মিলিয়ন ডলার। সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং যুদ্ধ বিমান হারিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। বাণিজ্যিক খাতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার। ভারতে নিহত ১০ জন এবং আহত ৪৮ জন। বিমান ভূপাতিত হয়েছে পাঁচটি এবং ব্রিগেড সদর দপ্তর ধ্বংস হয়েছে একটি। অন্যদিকে পাকিস্তানে নিহত ২৬ এবং আহত ৪৬ জন। স্থাপনায় আঘাত নয়টি।
মাউন্টব্যাটেনের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এ জনপদ ক্রমান্বয়ে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। রেডক্লিপ মাউন্টব্যাটেনের দেওয়া সম্মানী গ্রহণ না করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেয়া নাইট উপাধি গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তিনি ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং খুবই ক্ষতবিক্ষত। অপর্যাপ্ত সময় ভুলে ভরা তথ্য শত বর্ষের পুরানো মানচিত্র এবং দেশ বিভাজনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে জাতিগত দাঙ্গা লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঠিকানা বিহীন মানুষ যা তাকে সব সময় তার বিবেককে দংশন করতো। তাই তিনি বলেছিলেন ২-৩ বছর সময় পেলে আমি গবেষণা করে কাজটা ভালোভাবে করতে পারতাম। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন ভারতবর্ষের লোকেরা আমাকে সবসময় ঘৃণার চোখে দেখবে এটা ভেবে তিনি ভারত বিভাজনের সকল গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলেছিলেন।
বিশ্ব বিবেকের বাতিঘর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা সহ চীন রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশগুলো যদি আলোচনা সাপেক্ষে কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করেন তাহলে পাকিস্তান ফিরে পাবে তাদের দেশ বিভাজনের সময় যে বৈষম্য এবং কৌশলে কাশ্মীরকে পাকিস্তান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল তার অধিকার। আমরা পাবো একটি সুন্দর জনপদ। যেখানে থাকবে না কোন মারামারি হানাহানি রক্তপাত থাকবে শুধু শান্তি। মানবতা ধ্বংস হোক এমন পৃথিবী আমরা চাই না। হয়ে উঠুক পৃথিবী শান্তি ময় নিরাময় ও মঙ্গলময়ের জায়গা। যেখানে মানুষ থাকবে নিরাপদ। মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। এ পৃথিবীতে সকলে আমরা সকলের তরে প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান
সমাজকর্ম বিভাগ
মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ
ঢাকা