দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশে প্রায় ৮০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। এসব যানবাহনের একটি বড় অংশ অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট থেকে চার্জ হওয়ায় সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর এক নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। এ বিপুল চাহিদার বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের কারণে জাতীয় গ্রিড ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অননুমোদিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে তা চার্জিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্নীতিও হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও এ ধরনের বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে দ্রুত চলাচলের সুবিধার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
একই সঙ্গে চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী এবং চার্জিং সেবাদাতাদের ঘিরে এ খাতে ব্যাপক অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ার ফলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অননুমোদিত বা আবাসিক সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি চাপ এবং সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত যানবাহনে ব্যবহৃত সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ব্যবস্থাপনা ও অনানুষ্ঠানিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে সীসা, মাটি ও পানি দূষণ এবং শিশু ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকার নীতিমালা ও বিধি প্রণয়ন করেছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শিগগির তা বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে চালক নিয়ন্ত্রণ, চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়ক, পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি এবং নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা ও বেকারত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে নীতিমালা ও বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। অনুমোদনের পর এর আলোকে অটোরিকশার নিবন্ধন, চলাচলের সড়ক নির্ধারণ, চালক নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে নেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা চালু রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
এরই ধারাবাহিকতায় রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে আরও ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
এমএস/