দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের পর গ্রেপ্তার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়ির বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তদন্ত করেছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তদন্তে দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিফাতদের দোতলা বাড়িতে একটি নয়, মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। ২০২৬ সালের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।
সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সিফাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে তাকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
ভিডিওতে সিফাত দাবি করেন, গত দুই মাসে আগস্ট ও জুলাইয়ে তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। পরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলছে?’
তবে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ তদন্ত করে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিস। উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীরের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর পিতার নাম মো. সেকান্দার আলী। তাদের বাড়িতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, S000433*7 নম্বর মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিটের বিল এসেছে ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটের জন্য ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটের জন্য ৫১৩ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
S000218*5 নম্বর মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিটের বিল এসেছে ১ হাজার ৮১২ টাকা। জুনে ২০০ ইউনিটে ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটে ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটে ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
অন্যদিকে S000424*7 নম্বর মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল এসেছে ৮৪৭ টাকা। জুনে ১২০ ইউনিটে ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটে ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
তদন্ত অনুযায়ী, মে থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তিনটি আবাসিক মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এ সময়ে তিন মিটারে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজীপুর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা সিফাতদের বাড়িতে গিয়ে বৈদ্যুতিক পণ্যের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সিফাত আব্দুল্লাহ যে বাড়িতে বসবাস করেন, সেখানে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো অভিযোগ বা দাবি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি মিটারের বিলের পাশাপাশি বাড়িটির সব মিটারের ব্যবহার ও বিলের হিসাব বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এমএম/