দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকেই তার একটি প্রচ্ছন্ন প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি—বিয়ের বাজারে। একসময় যেখানে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল বংশমর্যাদা বা পারিবারিক ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হতো, সেখানে এখন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং নিশ্চিত ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে।
নতুন পে-স্কেলে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিয়ের বাজারে সরকারি চাকরিজীবী পাত্রদের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। এই পরিবর্তন কেবল যুবসমাজের ক্যারিয়ার ভাবনায় নয় বরং দীর্ঘদিনের চেনা সামাজিক ও বৈবাহিক মনস্তত্ত্বেও এক বড় ধরনের রূপান্তর নিয়ে আসছে।
বাংলাদেশে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের কথা উঠলেই অনেক পরিবারের অবধারিত একটি প্রশ্ন থাকে। উত্তর যদি হয় ‘সরকারি চাকরি’, পাত্রের গ্রহণযোগ্যতা যেন এক ধাপ বেড়ে যায়। আর উত্তর যদি হয় ‘বেসরকারি চাকরি’, তখনই শুরু হয় বেতন, চাকরির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা হিসাব।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়লে এই ব্যবধান কি বিয়ের বাজারেও আরও স্পষ্ট হবে?
বাংলাদেশের বিয়ের বাজারে সরকারি চাকরির প্রতি বাড়তি আকর্ষণ নতুন নয়। নিয়মিত বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, বিভিন্ন ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধার কারণে অনেক পরিবারের কাছে সরকারি চাকরি এখনও পাত্রের বড় যোগ্যতা। ফলে পাত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি চাকরির ধরনও হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।
প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আর্থিক ব্যবধান আরও দৃশ্যমান হতে পারে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন বেড়ে ২০ হাজার টাকা হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্মজীবনের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীরা তুলনামূলক স্থিতিশীল আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাওয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে সামাজিক মূল্যায়নেও।
গণমাধ্যমকর্মী ফরিদুল বলেন, বাংলাদেশে বিয়ের বাজারে সরকারি চাকরির প্রতি এই বাড়তি আগ্রহ নতুন নয়। তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আর্থিক ব্যবধান আরও স্পষ্ট হবে। ফলে বিয়ের বাজারেও বেসরকারি চাকরিজীবীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারেন।
একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া দুই তরুণের কথা ধরা যাক। একজন সরকারি চাকরিতে ঢুকে নিয়মিত বেতন ও বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম বেতনে কর্মজীবন শুরু করছেন। সময়ের সঙ্গে দুজনের আয় বাড়লেও শুরুর এই ব্যবধান অনেক সময় সামাজিক তুলনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গণমাধ্যমকর্মী আরিফ খান বলেন, সরকারি চাকরিতে বেতন নিয়মিত বাড়ে। অন্যদিকে অনেক বেসরকারি চাকরিজীবী মাস্টার্স পাস করে ২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করে বছরের পর বছর সেই বেতনেই থাকেন। বড়জোর এক যুগ পর বেতন বেড়ে ৩০ হাজার টাকার মতো হয়। অথচ সরকারি চাকরিতে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করলেও প্রতিবছর বেতন বাড়ার সুযোগ থাকে। এই কারণেই অনেক বাবা-মা সরকারি চাকরিজীবী পাত্রকে বেশি গুরুত্ব দেন। হোক সে পিয়ন, সরকারি চাকরি নিরাপদ এবং সামাজিকভাবে দাম বেশি।
তবে বেসরকারি খাতের সব চাকরির চিত্র এক নয়। ব্যাংক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত পেশায় অনেকের আয় সরকারি চাকরির চেয়েও বেশি। তবে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে বেসরকারি চাকরিতে দ্রুত বেতন বৃদ্ধির সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত।
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মৌহিত সরকার বলেন, কর্মজীবনের শুরুতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একজন গ্র্যাজুয়েটের বেতন অনেক ক্ষেত্রেই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। প্রতিষ্ঠান ও পেশাভেদে অবশ্য এই অঙ্কে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু এই বেতন থেকে ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি যেতে অনেক তরুণকে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়।
কে