দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় আইপিইউ পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নারী ও তরুণ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আইপিইউ মহাসচিব। সভায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য দেন।
নারী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, সামাজিক কুসংস্কার, নেতিবাচক রীতি এবং অনলাইনে বিদ্বেষমূলক আচরণসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয় নারীদের। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আইপিইউ বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
সংসদে নারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের আইপিইউর নারী ফোরাম, জাতিসংঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি এবং অন্যান্য কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
আইপিইউ মহাসচিব বলেন, সংসদ এমন একটি জায়গা, যেখানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও জাতীয় ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং দেশটিতে নতুন ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত আসন রয়েছে ৩০০টি। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে আরও ৫০টি। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৪০ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।
পূর্ববর্তী শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইপিইউ মহাসচিব ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে সরেজমিনে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান স্পিকার।
তিনি বলেন, প্রতিনিধিদল জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার সংসদ সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
স্পিকার বলেন, এসব বিষয়ে আগে থেকেই কোনো মন্তব্য না করে আইপিইউ প্রতিনিধিদলকে ঘটনাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং কূটনৈতিক সম্প্রদায়সহ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পরে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।
পূর্ববর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনের কথাও সভায় তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি আইপিইউ মহাসচিব ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে। গণতন্ত্র পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান, তাহসিনা রুশদী, আখতার হোসেন, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমিন, মাধবী মার্মা, মারদিয়া মমতাজ ও নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বক্তব্য দেন। তারা পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরেন।
এ সময় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মেঃ গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যে আই