দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে এক অনুষ্ঠানে সিস্টেমটির উদ্বোধন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও জাহাঙ্গীর হোসেন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান।
আরডিএমএসের উদ্দেশ্য ও সুবিধা তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ মানব পাচার প্রতিরোধ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পুনঃএকত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আরডিএমএস অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণে আরডিএমএস প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া শিশুদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে এটিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পাশাপাশি পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সমন্বিত করার কাজ চলমান রয়েছে।’
অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্তঃসংস্থার এই সমন্বিত উদ্যোগ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় আরডিএমএস তৈরি করা হয়েছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও হালনাগাদে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহায়তা করেছে। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা যাবে।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিত ব্যবস্থায় এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।
অনুষ্ঠানে আরডিএমএসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে জানানো হয়, এর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা এবং তথ্যের নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সিস্টেমটির মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানও সহজ হবে। ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সিস্টেমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরডিএমএস চালুর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/