দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ-চীনের যৌথ অংশীদারত্বের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে চীনের চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
মাহদী আমিন বলেন, এই সহযোগিতা শুধু আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। তা বাস্তবে কার্যকর করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে সুযোগে পরিণত করতে হবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও শিল্পের সংযোগ, বাংলাদেশে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ, চীন সফর এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই পক্ষ। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি কেবল কাগজে লেখা কোনো স্মারক নয়; এটি দুই দেশের জনগণের জন্য সহযোগিতাকে বাস্তব সুযোগে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি। একটি সমঝোতা স্মারক তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে এবং বাস্তবায়ন থেকে ফলাফলে রূপান্তরিত হয়।’
সম্মেলনে তিনটি শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও ফ্যান হংহুই।
চিয়াংশি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মাহদী আমিন ও অধ্যাপক পেই হংওয়েই। ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ + স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মো. দাউদ মিয়া ও অধ্যাপক ঝেং পেংউ।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও শিল্প উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার এবং বাংলাদেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রম গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী অন্যতম প্রধান শক্তি। তাদের মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক দক্ষতার সুযোগ দেওয়া গেলে তারা দক্ষ, উৎপাদনশীল ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তিতে পরিণত হবে।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মবাজারের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন।
সম্মেলনে চীনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক-গবেষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পোদ্যোক্তারা অংশ নেন। এতে ১৯টি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন আয়োজন ও আলোচনায় অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
এমএম/