দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বর্তমান জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদে একে অপরকে কথা বলার সুযোগে বাধা দেওয়ার প্রবণতা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আজকে একে অপরকে কথা বলার সুযোগকে যেভাবে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ না।’
স্পিকার বলেন, অনেক কষ্টের পর গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। গণতন্ত্র বহাল রাখার দায়িত্ব প্রতিটি সংসদ সদস্যের। সংসদ সদস্যদের রুলস অব প্রসিডিউর পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন, তখন সবাইকে বসে তা শুনতে হয়। এসব আইন ও নীতি না মানলে বা ভঙ্গ করলে সংসদ বেশিদিন চলবে না।
এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদে হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কিসের বাকস্বাধীনতা।’ তার এ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান বিরোধী দলের সদস্যরা।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যের বিষয়ে এভাবে মন্তব্য করা হলে তিনি বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘উনি নিজেকে কী মনে করেন। তিনি শুরু থেকেই সংসদে দুঃশাসন দেখিয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তার ছাত্র হিসেবে এখানে নাই। উনি শিক্ষক হলে তিনি ইউনিভার্সিটি খুলুন, সেখানে উনি বক্তব্য দিতে পারবেন। এটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা আপনাদের রয়েছে।’ তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা দাঁড়ানোর পর তার পেছনে অন্য সদস্যরাও দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। কাউকে বসানো যাচ্ছিল না।
স্পিকার বলেন, সংসদ কথা বলার জায়গা। কথার মাধ্যমে একে অপরের যুক্তি খণ্ডন করা যাবে। বিরোধীদলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। শব্দ করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।’
স্পিকার আরও বলেন, ‘আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে সংসদ পরিচালনা করার চেষ্টা করছি। বিগত ৪০ বছর ধরে এই জাতীয় সংসদে আছি। অতীতে অনেক খারাপ রেকর্ড আছে। আমরা বলতে পারি অতীতের তুলনায় আমরা ভালো সংসদ পেয়েছি।’
সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান স্পিকার।
এমএম/