দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আলোচিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা স্পিকারের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, আলোচিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কি না এবং এতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হতে পারে।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্যাক্টকে (চুক্তি) বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এটি বিশ্ব মুসলিম পরিবারের আত্মরক্ষার বিষয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।’
এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রায় এক বছর আলোচনার পর গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে সই করেন।
মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর ধারাবাহিকতায় তিন দেশের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
চুক্তিটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। এরই মধ্যে এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে সম্ভাব্য সুফল ও ঝুঁকি নিয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই ধরনের মতও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, এই প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এতে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
এমএম/