দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কোনো কনসার্ট বাতিল হওয়ার পেছনে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তিনি বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়াকে সরকারের অসহযোগিতা বা আপত্তির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে কনসার্ট বাতিল হতে পারে। কোথাও নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে সে কারণেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা হবে বলেও জানান তিনি।
আন্দালিভ রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টির কোনো মানসিকতা নেই। দেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট ও বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, গত ৪০-৫০ বছর ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে আগেও ঘটেছে। তবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশে সাংস্কৃতিক সহাবস্থান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ যে অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে বর্তমান সরকারের সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা বাড়ানো ও তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা কারও মুখ বন্ধ না করার কথা জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যখনই নিউজ করবেন, অবশ্যই আপনাদের নিউজ আপনারা করবেন। আমরা আপনাদের নিউজ ডিকটেট বা কমেন্ট করার পজিশনে নেই।’
তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তিনি। আন্দালিভ রহমান বলেন, ১৭ বছর পর সরকার যে দায়িত্ব পেয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়। দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথাও জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনসহ আগের বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তদের সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন এবং সরকারের মূল দাবি হলো সংশ্লিষ্টদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় বিচার নিশ্চিত করা।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমে সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম তুলে ধরা হলে সরকার আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে সরকারের সমালোচনার অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে এবং এ স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সরকারি টেলিভিশনে বিরোধী দলের খবর প্রচারের নতুন নির্দেশনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), সংসদ টেলিভিশনসহ সরকারি টেলিভিশনগুলোতে শুধু সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের খবর প্রচার করা হবে না। আনুপাতিক হারে বিরোধী দলের সদস্য এবং সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর বক্তব্যও প্রচার করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে হোক বা পক্ষে হোক, জনগণের পক্ষে বলা কথাগুলো তুলে ধরাই গণতন্ত্র। মঙ্গলবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকরে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমএম/