দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের মধ্যে গত শনিবার সামিটের এলএনজি টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় গত তিন দিন ধরে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমছিল।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ৩টায় টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশে চলমান গ্যাস-সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারকি করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানির সরাসরি দায়িত্বে রয়েছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিপোতে প্রয়োজনীয় এলএনজি মজুত না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র জানায়, নিয়মিত দরপত্রের বাইরে দ্রুত ও কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে এসব কার্গোর চারটি দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। ফলে টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় সরবরাহ চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিটের।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত শনিবার পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। সোমবার থেকে সেই সরবরাহও কমতে থাকে। বুধবার বিকেলে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তবে বৃহস্পতিবার একটি নতুন এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, এক্সিলারেটের জন্য প্রয়োজনীয় কার্গো আগামী ২৩ বা ২৪ আগস্টের আগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। ফলে আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। স্বাভাবিক সময়ে এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত শুক্রবার দুই টার্মিনাল একযোগে বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ দৈনিক ১৬৪ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল। পরে সামিট ৯ কোটি ঘনফুট সরবরাহ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলে শনিবার ভোরে মোট সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ২৪২ কোটি ঘনফুটে। রোববার তা কমে ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।
বুধবার এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ আরও কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার এলএনজি খাত থেকে ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বুধবার তা কমে মাত্র ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
যে আই