দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে আজ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোট হবে।
দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট শেষে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করে ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, সংসদের প্লেনারি হলে ভোট গ্রহণ হবে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে একটি করে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে।
ভোটারদের সুবিধার জন্য ভোটকেন্দ্রে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে, যাতে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় না হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোট গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট শুরুর প্রথম ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী কোনো সংসদ সদস্য হলে তাঁর ভোট দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হবে। ভোট গ্রহণের শেষ পর্যায়, ব্যালট বাক্স খোলা, ভোট গণনা ও ফল ঘোষণাও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো সংসদ সদস্য ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ শূন্য হবে।
বুধবার নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঐতিহাসিক। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একজন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন হওয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন।
জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার কারণ হিসেবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানও দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে চান তারা।
এর আগে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের বিপরীতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। নির্বাচনে জয়ী হন আবদুর রহমান বিশ্বাস।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় আজকের ভোটকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।