দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের দিন জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, সংসদ ভবনের ভেতরের পরিবেশ ও বিধিমালা বজায় রাখার দায়িত্ব স্পিকারের। তবে ভোটের দিন হাউজের ভেতরে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সুযোগ থাকবে না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত বা কোটি কোটি টাকা খরচের খবরকে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেছেন সিইসি। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান সিইসি। সাধারণত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ সচিব ব্রিফ করলেও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে সিইসির ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত থাকায় তিনি নিজেই সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর ওই দিনই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশে এই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালার আলোকে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিচ্ছে।
জাতীয় সংসদ বর্তমানে নিয়মিত অধিবেশনে না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিইসি নিজেই সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করেছেন। গত ১১ আগস্ট ন্যূনতম সাত দিন সময় রেখে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা ও তফসিল প্রকাশ করেছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নামে। বিএনপির পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে।
পরে ১৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহায়তায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সংসদ সদস্যদের শপথের দিনের মূল স্বাক্ষর রেজিস্টারের সঙ্গে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর মিলিয়ে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই প্রার্থীর দুটি বৈধ মনোনয়নপত্রের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থীই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
ভোটার তালিকার ক্রম নিয়ে সিইসি বলেন, সংসদীয় আসনের ক্রম অনুযায়ী পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু হয়ে বান্দরবানে গিয়ে ৩০০ আসন শেষ হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মূলত সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের উপনির্বাচন বা শূন্যতার কারণে ভোটার তালিকায় বিভক্তি নম্বরে কিছুটা ধারাবাহিকতা নেই। তবে নিয়ম অনুযায়ী তা সমাধান করা হয়েছে। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন।
সিইসি জানান, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, সেই অনুযায়ী পরামর্শক্রমেই নির্বাচনের সব সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ থাকবে। নির্বাচন ও ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোটার ও প্রার্থীদের নাম ব্যালট পেপারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় ভোটদানের বিষয়টি উপস্থিত সবার কাছে দৃশ্যমান থাকবে। ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান এবং ফল গণনার পর্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমএম/