দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি পাঠানো হবে।
জানা গেছে, জামায়াতের পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে। পরে ইসি যদি সাতক্ষীরা-৪ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে, তাহলে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে বিষয়টি সংসদ সদস্যদের অবহিত করবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এ প্রসঙ্গে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে বিষয়টি জানিয়ে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ সচিবালয়ের কাজ হলো আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া। পরে নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয়কে জানাবে। এরপর অধিবেশনে স্পিকার সংসদ সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করবেন।’
এর আগে গত ২৩ জুলাই দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ওই চিঠি দেন।
ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। এরপরই তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
আইন ও সংবিধান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়।
আবার সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনের কারণে দুই বছরের বেশি সময়ের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। তবে সাজা শেষ হওয়ার পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য থাকবেন না।
কেএম