দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে দেশটির সহযোগিতা প্রয়োজন।
দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রিন স্কিল ও ডিজিটাল স্কিল প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, এফসিডিও, আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বে চলমান রাইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হলে তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ তুলে ধরে অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান তিনি।
অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সরকার ও জনগণ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশটির আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্পসংখ্যকের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কেউ স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসনসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/