দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে নতুন করে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে এ কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।’
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গোষ্ঠী এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।
দেশে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাঁদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সময়মতো আসবে। শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ প্রয়োজন।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সেখানে চীনকে বড় একটি জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপন করা হবে। এসব কারখানায় চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
কৃষক কার্ডের আওতায় লবণ চাষিদেরও আনা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষিরাই কৃষক কার্ড পাবেন না; লবণ চাষিরাও এই কার্ড পাবেন।
লবণের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনা করে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে লবণ চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। শিগগিরই নির্ধারিত মূল্য সবাইকে জানানো হবে। এতে লবণ চাষিদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানান। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এর মধ্যে বাঁশখালী এলাকায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএম/