দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যারা গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে, শহীদ হয়েছে, তাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন আমরা করতে চাই। তবে চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না।’
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তির আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতি করতে চায়। তাদেরকে অনেকবার বলেছি- একাত্তরের চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেইল করেছে। শেখ হাসিনা একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির নতুন বন্ধুরা, নতুন বন্দোবস্তের নতুন রাজনীতির কথা বলে, পুরাতন বন্দোবস্তের ধারায়। তাদেরকে সংশোধন হতে বলবো। রাজনীতিতে বাল্যশিক্ষা শ্রেণির ছাত্র হয়ে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মতো আচরণ করে, সেটা ঠিক নয়। শিখতে হবে, অনেক দূর যেতে হবে। রাজনৈতিক মাঠ অনেক কঠিন। বন্ধুর এবং কণ্টকাকীর্ণ পথ। এত সহজ নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা শেখ হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন। দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সেই অভিযোগ আমাদের রয়েছে। ভারতের দ্বিমুখী অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদের তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। যদি অপতত্ত্ব এবং মিথ্যা বলার কোনো বাক্স পৃথিবীতে চ্যাম্পিয়ন হতো, সেটা হলো শেখ হাসিনার বাক্স। তার ছেলেরও নাকি সেই অনুষ্ঠানে যোগদান করেছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হয়েই শপথ নিয়েই বিরোধীদলের নেতাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন। আমরা কখনও কারও নামে বিদ্বেষমূলক কোনো বক্তব্য দিতে চাইনি, দেইও না। বিতর্ক হবে, গণতান্ত্রিক বিতর্ক হবে। আমরা তো পাল্টাতে চেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সমস্ত উসকানিতে আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং বিভিন্ন জেলায় গিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যারা আমি বলেছি আমার কচি বন্ধুরা, তারা ঠিক আছে, প্রাইমারি লেভেলের রাজনীতির ছাত্র, তাদের ভুল হতে পারে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিশিয়ারি কে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। সেই ওয়ান ইলেভেন এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তাদের মধ্যে যোগসূত্র আছে। তারা কেউ এখন বিদেশে আছে এবং শেখ হাসিনা অবশ্য তার নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছে। কারণ, আওয়ামী লীগের আমার অনেক প্রত্যাবর্তন দিবস আছে, তার পিতা আছে, তার ছেলের আছে, তার মেয়ের আছে, তার নিজের আছে। খালি প্রত্যাবর্তন করে। কিন্তু এইবার সঠিকভাবে প্রত্যাবর্তন করেছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যেভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যেই স্পাত কঠিন ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল। সেটা ধরে রাখতে হবে। সেই ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং সেই ঐক্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
কেএম